ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নির্মাণাধীন সড়কে বিটুমিনের বয়লার বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

সাতক্ষীরা প্রতি‌নি‌ধি
প্রকাশিত: ০৩:২২, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
নির্মাণাধীন সড়কে বিটুমিনের বয়লার বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নির্মাণাধীন সড়কে প্রাইম কোর্টের কাজ করার সময় বিটুমিনের বয়লার বিস্ফোরণে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কালিকাপুর তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত শ্রমিকরা কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর, রহিমপুর, গনপতি, পাইকাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর রেজাউল ইসলাম (৩৩), জাহিদ হোসেন (৩৫), আবুল হোসেন (৪৫) এবং মোনাজাত আলী (৫৫)কে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বদরুজ্জামান (৩৫) ও নাজমুল কবীরকে (২২) শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় একশ দুই ডিগ্রি তাপমাত্রায় জ্বালানো বিটুমিনের সঙ্গে ডিজেলের মিশ্রণকালে আকস্মিক এ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে আহত শ্রমিকদের দাবি ডিজেলের পরিবর্তে দোকানদার ভুলবশত পেট্রল সরবরাহ করেছিল। যার প্রেক্ষিতে প্রচণ্ড তাপমাত্রায় জ্বালানো বিটুমিন পেট্রলের সংস্পর্শে আসতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এসব শ্রমিক আহমদ ট্রেডার্স নামীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কালিকাপুর তালতলা থেকে খেয়াঘাট সংযোগ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

Advertisement

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বদরুজ্জামান জানান, নির্মাণাধীন সড়কে প্রাইম কোর্টের কাজের জন্য শ্রমিকরা শুরুতে বিটুমিন জ্বালান। একপর্যায়ে তপ্ত বিটুমিনের সঙ্গে ডিজেল ভেবে পেট্রল মিশ্রণের চেষ্টা করতেই মুহূর্তেই প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে বয়লার জ্বলে উঠে। এ সময় সেখানে থাকা ১০ শ্রমিক আহত হলেও ছয়জনকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অপর শ্রমিকরা সম্মিলিতভাবে জ্বলন্ত বয়লারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিক নাজমুল জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে এমন কাজে জড়িত হলেও প্রথমবার এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি। তার দাবি মূল্য বেশি হলেও দোকানদার ভুলবশত ডিজেলের পরিবর্তে তাদের কাছে পেট্রল সরবরাহ করায় তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাজমুল মুনির জানান, রেজাউলের শরীরের উপরি ভাগের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া মোনাজাতের মুখ ও বুকসহ পেটের নিচে প্রায় ২৫ ভাগ পুড়েছে। এমতাবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের মধ্যে চারজনকে খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন দুই শ্রমিক শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!