এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষ কেএসআরএম-এর গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে এমভি আবদুল্লাহ। ২২ এপ্রিল জাহাজটি সেখানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জাহাজটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কেএসআরএম গ্রুপের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে জাহাজটির চারপাশ কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এছাড়া ফের জলদস্যুরা হানা দিলে যেন উচ্চচাপে পানি ছিটানো যায়, সেজন্য জাহাজের ডেকে হাই প্রেসার ফায়ার হোস বসানো হয়েছে। পুনরায় কোনো বিপদ ঘটলে নাবিকরা যেন জাহাজে সুরক্ষিত স্থানে লুকাতে পারেন, সেজন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ‘সিটাডেল’ (জাহাজের গোপন কুঠুরি)।
.png)
প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূল থেকে ৩৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। এটি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি যুদ্ধজাহাজ পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এমভি আবদুল্লাহকে। আরো ১২১ নটিক্যাল মাইল চলার পর ঝুঁকিমুক্ত এলাকা পাবে এমভি আবদুল্লাহ। এরপর দুশ্চিন্তাও কিছুটা কমবে নাবিকদের।
কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম বলেন, সোমালিয়ার যে উপকূল থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছে, সেটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। কাঁটাতারের বেষ্টনী যুক্ত করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সব জাহাজে এমন প্রস্তুতি থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অতিক্রমের সময় আমরা সেটি ব্যবহার করি। সেদিন আমাদের জাহাজটি হাইরিস্ক এরিয়ার বাইরে ছিল। সোমালিয়ার উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল রিস্কি এলাকা। তখন আমরা ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিলাম। তাই আর্ম গার্ড নেইনি আমরা।
গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন পর শনিবার বিকেলে মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে জাহাজ ছেড়ে নয়টি বোটে চলে যায় ৬৫ জলদস্যু। এরপর মধ্যরাতে ২৩ নাবিক নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এর আগে, ২০১০ সালে জলদস্যুর কবলে পড়ে একই গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি জাহান মণি। তিন মাস পর মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি ফিরিয়ে আনে তারা।
এমভি আবদুল্লাহর মুক্ত ২৩ নাবিক হলেন- মাস্টার রাশেদ মোহাম্মদ আব্দুর, চিফ অফিসার খান মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সেকেন্ড অফিসার চৌধুরী মাজহারুল ইসলাম, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ তানভীর, ফায়ারম্যান শাকিল মোশাররফ হোসেন, চিফ কুক ইসলাম মোহাম্মদ শফিকুল, জেনারেল স্টুয়ার্ড উদ্দিন মোহাম্মদ নূর, রহমান মোহাম্মদ আসিফুর, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, ওয়েলার হক আইনুল, শামসুদ্দিন মোহাম্মদ। তাদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামে।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর ইঞ্জিন ক্যাডেট খান আইয়ুব, ইলেকট্রিশিয়ান উল্লাহ ও ইব্রাহিম খলিল। নোয়াখালীর নাবিক হক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ও ফাইটার আহমেদ মোহাম্মদ সালেহ। খুলনার সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম মোহাম্মদ তৌফিকুল, ফরিদপুরের থার্ড অফিসার ইসলাম মোহাম্মদ তারেকুল, টাঙ্গাইলের ডেক ক্যাডেট হোসাইন মোহাম্মদ সাব্বির। নওগাঁর চিফ ইঞ্জিনিয়ার শাহিদুজ্জামান এএসএম। নেত্রকোণার থার্ড ইঞ্জিনিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ রোকন ও নাটোরের অর্ডিনারি সীম্যান মোহাম্মদ জয়। সিরাজগঞ্জের হক মোহাম্মদ নাজমুল ও বরিশালের হোসাইন মোহাম্মদ আলী।