পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি এসেছিলেন ২৬ বছর বয়সী শাহ আলম। ঈদের উপহার নতুন কাপড় এনেছিলেন সবার জন্য। ঈদটাও সানন্দে পার করেছেন। ঈদের একদিন পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে আর ফেরেননি হাসোজ্জ্বল তরুণটি। সড়ক দুর্ঘটনা কেড়েছে নিয়েছে তার প্রাণ। শোকে স্তব্ধ এখন শাহ আলমের পরিবার৷
শাহ আলমের সঙ্গে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোস্তাফিজ ও নয়ন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, সড়ক আইন না মানার কারণে তাদের মতো সড়কেই প্রাণ গেছে অনেক তরুণের৷ অনেকে আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
.png)
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র বলছে, সারা বছরে যত সড়ক দুর্ঘটনা, তার ৭০ শতাংশেরও বেশি ঘটে ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের সময়৷ এবারের ঈদ ও নববর্ষের ছুটিতে সড়কে প্রাণ গেছে ১০ জনের, আহত দুই শতাধিকের বেশি৷ অধিকাংশই বয়সে তরুণ।
শাহআলমের মা তৈয়বা বেগম বলেন, জীবন থেকে ঈদটা শেষ হয়ে গেল। আর কোনদিন ঈদে আনন্দ করতে পারব না৷ এমন দিন কোনো মায়ের না আসুক।
ঠাকুরগাঁও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি আবু মহিউদ্দীন বলেন,ঈদের আগে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে সভা হয়, সুপারিশ আসে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয় না। উৎসবে-আনন্দে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি।
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, নিয়ম না মেনে আর অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমাদের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে অভিভাবকেরা সন্তানদের গাড়ির চাবি দেওয়ার আগে সচেতন হওয়া উচিত৷