ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামী পাতেন প্রেমের ফাঁদ, স্ত্রী করেন ব্ল্যাকমেইল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:১০, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
স্বামী পাতেন প্রেমের ফাঁদ, স্ত্রী করেন ব্ল্যাকমেইল
ইনসেটে গ্রেফতারকৃত শহীদুল

প্রেমের ফাঁদে ফেলে গৃহবধূকে দেখান বিয়ের প্রলোভন। এরপর বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ। অন্তরঙ্গ সেই মুহূর্তের ভিডিও মোবাইলে ধারণের পর ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করেন ৩০ হাজার টাকা। এতেও থেমে যাননি ওয়ার্কশপ কর্মচারী শহীদুল। ভিডিও ডিলিট করার আশ্বাসে ফের করেছেন ধর্ষণ।

উপায় না দেখে স্বামীকে জানান গৃহবধূ। এরপর স্বামী গিয়ে শহীদুলের স্ত্রীকে জানালে তিনিও শুরু করেন ব্ল্যাকমেইলিং। দাবি করেন এক লাখ টাকা। অন্যথায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

সবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। এদিকে মামলা খেয়ে পালিয়ে যান শহীদুল। কিন্তু এতেও রক্ষা হয়নি তার। অবস্থান শনাক্তের পর তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।   

Advertisement

বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। এর আগে, বুধবার দুপুরে মানিকছড়ির তিন টহরী গোদারপাড় এলাকা থেকে শহীদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত শহীদুল ইসলাম একই এলাকার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঐ গৃহবধূকে নগরের পতেঙ্গা থানার কাটগড় নাজিরপাড়া এলাকায় বন্ধু সুমন দে’র বাসায় নিয়ে যান শহীদুল। সেখানে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তিনি। ধর্ষণের সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে গৃহবধূর পরিবারকে দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে ফের শারীরিক সম্পর্কের জন্য গৃহবধূকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন শহীদুল। একপর্যায়ে শেষবারের মতো শারীরিক সম্পর্ক করলে ভিডিও ডিলিট করা হবে- এমন আশ্বাসে ১০ মার্চ ফের গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তিনি।

কিন্তু এরপরও ভিডিও ডিলিট না করে গৃহবধূর কাছে টাকা দাবি করেন শহীদুল ও তার বন্ধু সুমন। এরপর তিন কিস্তিতে তাদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও ২০ মার্চ ফের গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। এ অবস্থায় উপায় না দেখে স্বামীকে জানালে তিনি বিষয়টি শহীদুলের স্ত্রীকে জানান। জানানোর পর শহীদুলের স্ত্রীও উল্টো এক লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মামলার পর আসামি শহীদুল পালিয়ে যান। মামলার তদন্তভার পেয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করতে থাকি। কিন্তু তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। সবশেষ খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির তিন টহরী গোদারপাড় এলাকায় অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, এভাবে প্রতারণা ও নারীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করতেন শহীদুল। স্ত্রী ও বন্ধু সুমন তাকে এ কাজে সহযোগিতা করতেন। শহীদুল মূলত পেশায় একজন ওয়ার্কশপ কর্মচারী। স্ত্রীকে নিয়ে নগরের পতেঙ্গায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। মামলার পর খাগড়াছড়ি গিয়ে সেখানে একটি ওয়ার্কশপে কাজ নেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!