বৃহস্পতিবার ঢাকাগামী যাত্রী শহীদুল ইসলাম বলেন, ঈদের দুইদিন আগে থেকে ঢাকা-শেরপুরগামী সব দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০-৯০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। অপরদিকে, ঈদ পার হয়েছে আজ আটদিন অথচ শেরপুর-ঢাকাগামীসহ অন্যান্য সব সড়কে বাসভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হারেই নেয়া হচ্ছে।
যাত্রী ইব্রাহীম হায়দার বলেন, বাসভাড়া বেশি নেয়ার কারণে ভুক্তভোগী অনেকেই বাসের টিকিটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তারা লিখেছেন, এ বিষয়ে প্রশাসন নীরব কেন?
.png)
যাত্রী আব্দুস সাকুর বলেন, শেরপুর চেম্বার অব কমার্স, কালেক্টরেট, উইমেন চেম্বার, টেনিস ক্লাবসহ অন্য সব শেরপুর-ঢাকা কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
শেরপুর হেল্পলাইন নামের ফেসবুক আইডিতে এক যাত্রী বাসের টিকিটের ছবিসহ লেখেন, এগুলো কি দেখার কেউ নেই? যেমন খুশি তেমন করে ভাড়া নিচ্ছে। দুই সিটের ভাড়া ১৬০০ টাকা নিয়েছে এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এদিকে, দূরপাল্লার বাস ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশায়ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
শ্রীবরদীর রানী শিমুল এলাকার হোসেন মাতব্বর বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শেরপুর-শ্রীবরদী, শেরপুর-নকলা, শেরপুর-ঝিনাইগাতী, শেরপুর-নালিতাবাড়ী এবং শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার ৪০ টাকার ভাড়ার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত।
জেলা শহরের খোয়ারপাড় এলাকা থেকে ঝিনাইগাতীগামী যাত্রী আশরাফ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।
এদিকে, ভাড়া বৃদ্ধি নেয়ার কথা স্বীকার করে শেরপুর চেম্বার-টু এর কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা বলেন, আমরা আর ২-১ দিন ভাড়া বেশি নেবো, এরপর আর নেয়া হবে না।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে শেরপুর জেলা বাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দে সেন্টু বলেন, আমাদের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো রকম ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে তারা ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন। এসব বিষয় প্রশাসনের দেখা উচিত।
এ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি রোধে আমরা এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী মালিকদের কাছ থেকে যাত্রীদের ভাড়া ফেরত দিয়েছি। এছাড়া এ অভিযান এখনো চলছে।