নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড ইনচার্জ জানিয়েছেন, মাথাপিছু তারা এক হাজার ২০০ টাকা করে চাঁদা দিয়েছেন।
গত রোববার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অডিট অধিদফতরের তিন কর্মকর্তা হাসপাতালটিতে এসেছিলেন। গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) তারা ফিরে গেছেন।
.png)
ইনচার্জরা জানান, হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন ও নার্সিং সুপারভাইজার ময়েজ উদ্দিন নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কামরুন্নাহার পান্নার মাধ্যমে এই চাঁদা তুলেছেন।
নার্সিং সুপারভাইজার ময়েজ উদ্দিন হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ ও নার্সদের ফোন করে চাঁদা দিতে বলছেন, এমন একাধিক অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত রোববার তিনজন অডিট অফিসার হাসপাতালে আসার পরই সেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন ও নার্সিং সুপারভাইজার ময়েজ উদ্দিন চাঁদা তোলার ছক কষেন। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডের ইনচার্জের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কামরুন্নাহার পান্নাকে নির্দেশনা দেন। গত বৃহস্পতিবার কামরুন্নাহার পান্না ওয়ার্ড ইনচার্জদের ডেকে সভা করেন। সেখানে তিনি মাথাপিছু এক হাজার ২০০ টাকা করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তারেক নামের এক ব্রাদারকে টাকা আদায়কারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর বেশি তিনি কথা বলতে চাননি। কথা বলার জন্য সেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুনের মোবাইলে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফোন ধরেননি সুফিয়া খাতুনের সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসও।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা ও হিসাব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, অডিটে গিয়ে আমরা কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। এটা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেবে।
হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে৷ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।