তারা কুলিয়ারচর, ভৈরব ও নরসিংদী স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণের টাকা (চাঁদা) দাবি করে থাকে। টাকা দিতে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং অশ্লীলভাবে অঙ্গ প্রদর্শন করেন। যা যেকোনো সভ্য সমাজের মানুষের জন্য সম্মানহানিকর। কোনো কোনো যাত্রী তাদের সম্মান রক্ষার্থে গালাগাল এবং অশ্লীলভাবে অঙ্গ প্রদর্শন থেকে বাচঁতে হিজড়াদের চাওয়া মাত্র টাকা দিয়ে দেন।
সোমবার ২৯ এপ্রিল সরেজমিন কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনে দেখা যায় কুলিয়ারচর স্টেশন থেকে অজ্ঞাতনামা ২ হিজড়া উঠে গ বগিতে। তারা বিভিন্নভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা (চাদাঁ) দাবি করছেন। অনেকে স্বেচ্ছায় দিচ্ছেন আর যারা স্বেচ্ছায় দিতে চাচ্ছেন না তাদের সঙ্গে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে সম্মানহানি করছেন। যার ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই সবাই টাকা দিয়ে দিচ্ছে।
.png)
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী জেলা শহরের বাসিন্দা সুমন বলেন, সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। তারা শুধু ট্রেনে নয় বিভিন্ন মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোর করে টাকা আদায় করে নেয়।
শহরের শোলাকিয়া এলাকার ইসমাইল বলেন, হিজড়ারা প্রতিবারই ট্রেনে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। টাকা না দিতে চাইলে যা ইচ্ছা গালিও দেয় আমরা এদের অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ চাই।
অপর এক ট্রেনযাত্রী হারিস বলেন, ‘হিজড়ারা শুধু বলে মামা টাকা দে, ওরা মনে হয় আমাদের কাছে টাকা রেখে গেছিলো ওদের দেওয়ার জন্য।’
শিক্ষার্থী আশফাকুল আলম প্রান্ত বলেন, সরকার বা প্রশাসনের উচিত এদের জন্য চাঁদাবাজি বা ভিক্ষা করতে না হয় এমন একটি ব্যবস্থা করা। কারণ এদেরও তো খেতে হয়। আমরা তো সমাজে এদের কোনো কাজের সুযোগ করে দেই না।
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমরা প্লাটফর্মে কী হয় বা স্টেশন এলাকায় কী ঘটছে সেগুলো দেখি, ট্রেন চলাকালীন সময়ে হিজড়াদের জোর করে টাকা আদায় করার অভিযোগ পেলেও আমাদের কিছু করার থাকে না।।