বৃষ্টির খবরে দাবদাহের মধ্যে হাওরে ধান কাটার ধুম
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। শুক্র ও শনিবার তা বিস্তরলাভ করে দেশজুড়ে হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। চলমান তাপপ্রবাহ শেষে বৃষ্টির পূর্বাভাসে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বোরোর মৌসুমের কৃষকরা। সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টিপাতের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় হাওর অঞ্চলে ৮০ শতাংশ পরিপক্ব হলে বোরো ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
বৃষ্টি নিয়ে এমন খবরে বোরো ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে। দাবদাহ উপেক্ষা করে কৃষকরা গোলায় ধান তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কৃষকরা জানিয়েছেন, সময় কম পাওয়ায় শ্রমিকের বদলে হার্ভেস্টর মেশিনে ঝুকছেন কৃষকরা। এতে দ্রুত সময়ে মাঠের ধান ঘরে তুলতে পারছেন তারা। আগামী ১০-১৫ দিন আবহাওয়া কৃষকদের পক্ষে গেলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী হাওরের কৃষকরা।
বাহুবল, লাখাই আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দল বেঁধে নারী-পুরুষ খাস্তে দিয়ে ধান কাটা উৎসবে মেতে উঠেছেন। কোনো কোনো স্থানে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। কৃষকরা জানান, আগাম ও হাইব্রিড জাতের ধান কাটা অনেকটা শেষের পথে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে।
কৃষি অধিদফতর জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় আট হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক লাখ ২২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে চাষ হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২০ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন।এ বছর ধানের দাম প্রতি কেজি ৩০ টাকার বেশি হতে পারে। সে হিসেবে ১৫০০ কোটি টাকার ধান উৎপন্ন হতে পারে হবিগঞ্জে।