বিদেশি বউকে নিয়ে হেলিকপ্টারে ফিরলেন প্রবাসী
হেলিকপ্টার নামল প্রত্যন্ত এলাকার এক স্কুল মাঠে, তা থেকে বেরিয়ে এলেন এক দম্পতি। চারপাশে ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরে এমন এক ভিন্ন আয়োজনের দেখা মিলল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাড়েয়া ইউনিয়নের মাড়েয়া মডেল হাই স্কুল মাঠে।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম শহিদ নববধূকে হেলিকপ্টারে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মেঘনা অ্যাভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টারে চড়ে অবতরণ করলে তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান সবাই।
আরো জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আলোক পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহর আলী ও রহিমা বেগমের ছেলে ৫ম ছেলে শহিদুল ইসলাম। ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরে গিয়ে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইন্সিটিউট থেকে পড়াশুনা করেন। এরপর প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করলেও বর্তমানে নিজের কনস্ট্রাকশন কোম্পানি পরিচালনা করে আসছেন। এরমধ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সিঙ্গাপুরের এক তরুণীকে বিয়ে করে জীবনসঙ্গী করেন তিনি।
.png)
এ সময় কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে তারা বলেন, টিভি ও মোবাইলে হেলিকপ্টারের অনেক ছবি দেখেছি। কিন্তু কখনো সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আজ আমাদের এলাকার ছেলে এই সুযোগ করে দিয়েছে। তাই আমরা পরিবারের সদস্যরা মিলে হেলিকপ্টার ও নববধূকে দেখতে এসেছি।
আলেয়া বেগম নামে আরেক নারী বলেন, কয়েকদিন ধরে শুনছি আমাদের এলাকায় বিদেশি বউ হেলিকপ্টারে আসবে। তাই আমরা সকাল থেকে তাদের দেখতে স্কুল মাঠে অপেক্ষা করছিলাম।
এদিকে আমিরুল হক ও নুরুল ইসলাম বলেন, আজ আমাদের অনেক ভালো লাগছে। কারণ আমাদের এলাকার ছেলে শহিদ বিদেশ থেকে হেলিকপ্টারে ফিরেছে। সঙ্গে নতুন বিদেশি বউ নিয়ে এসেছে। তাদের দেখে আমরা সবাই খুব আনন্দিত। আজ আমাদের হেলিকপ্টার দেখার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
শহিদের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে থাকছে। সেখানে বিয়ে করে নতুন বউকে নিয়ে এবার প্রথম নিজ দেশে এসেছে। তার ইচ্ছা ছিল নববধূকে হেলিকপ্টারে নিয়ে আসবে। তাই তাদের আসার পর আমরা তাদের বরণ করে নিয়েছি।
প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সিঙ্গাপুরে থাকছি। আমার স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টার করে আমার স্ত্রী ও পরিচালককে নিয়ে বাংলাদেশে আসা। সেই স্বপ্ন থেকে আজ নিজ জন্মভূমিতে ফিরেছি। খুব ভালো লাগছে, আমাদের বরণ করে নিতে পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষ এসেছে। তবে আরো ভালো লাগছে, যে স্কুল থেকে পড়াশোনা করে আজ আমি বাইরে সে স্কুলের মাঠেই আমাদের হেলিকপ্টার অবতরণ হয়েছে।