এ ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১০ মে) বিকেলে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
জানা যায়, সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী নুরুল আলম নুরুর বিরুদ্ধে মাস খানেক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয় নুরুল ইসলাম সৌদি থেকে আরেক জনের স্বর্ণ এনে পুরোটা বুঝিয়ে দেননি। শুক্রবার বিকেলে নুরুল ইসলাম বাড়িতে থাকার খবর পেয়ে ডিবিপুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে উপস্থিত নারীসহ অন্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশকে পিস্তল তাক করতে দেখা যায়। তবে আসামি না পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।
ঘটনার সময় উপস্থিত নুরুল আলমের ভাই সারোয়ার আলম অভিযোগ করে জানান, সাদা পোশাকে যাওয়া লোকজন বাড়িতে ঢুকেই তার ভাইকে খোঁজ করতে থাকেন। তার ভাই বাড়িতে নেই, বলা হলেও তারা বিষয়টি মানতে চাননি। এ সময় পুলিশ সদস্যরা নুরুল ইসলামের স্ত্রী বন্যা বেগমসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। নিশাত নামে ৯ বছরের এক শিশুও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এমনকি তার ওপরও হামলা হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে করা কিছু ভিডিও তারা ডিলিট তরে দেন।
তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বর্ণ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। স্বর্ণ আমার ভাই আনেনি। অন্যের মাধ্যমে আমার ভাইয়ের কাছে দেওয়া হয় বলছেন তারা। আমার ভাইকে ধরতে হলে কেনো আমাদের বাড়িতে এভাবে হামলা হবে? বিষয়টি আমরা থানায় জানিয়েছি। আদালতে এ নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পুলিশ পিস্তল তাক করার পাশাপাশি গুলিও করেছে। গুলির খোসাও আমাদের কাছে আছে। তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে খোসা কার।
ডিবি পুলিশের এসআই রেজাউল করিম বলেন, বাদী পক্ষ বিষয়টি আমাদেরকে জানালে প্রথমে ইন্সপেক্টর মোফাজ্জল আলী একজন কনস্টেবলকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আমি যাই। দূর থেকেই ঐ বাড়ি ঝগড়া শুনছিলাম। আমি যাওয়ার পর তারা খারাপ আচরণ করেন। আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়।
তিনি বলেন, আমার হাতে পিস্তল ছিলো। তবে কারো দিক তাক করিনি। কাউকে মারধর করা হয়নি। আমাদের টার্গেট যেহেতু আসামি ধরা সেহেতু সেই লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি। যে কারণে তখন আমরা অ্যাকশনে যাইনি।
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্তভার আমাদের হাতে। মূল আসামির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ গ্রাম স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ আছে। মামলা হওয়ার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। সদর উপজেলা বিশ্বরোড এলাকার বাদী এসে বাড়িতে আসামির অবস্থানের কথা জানালে সেখানে যাওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিবির ওসি মো. আফজাল হোসাইন বলেন, আসামি ধরতে গিয়ে ঐ বাড়িতে সমস্যা হয়। তবে যেহেতু কোনো পুলিশ আহত হননি সে কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গুলি করা কিংবা পিস্তল তাক করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো অফিসার যদি আসামি ধরতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাহলে আমরা যথাযথ নেবো।