ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
মহাদেবপুরে ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ

কৃষকদের ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা চেয়ারম্যান 

আব্বাস আলী, নওগাঁ
প্রকাশিত: ১৫:০১, ১৬ মে ২০২৪
কৃষকদের ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা চেয়ারম্যান 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গণির বিরুদ্ধে ধান ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কৌশল হিসেবে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা দিয়ে তার প্রতিষ্ঠানটি একটি কোম্পানিকে ভাড়া দিয়ে পরিবারসহ লাপাত্তা চেয়ারম্যান। এদিকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা টাকা না পেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। বাধ্য হয়ে গত ১২ মে মহাদেবপুর উপজেলার মডেল স্কুল মোড়ে মানববন্ধন  ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পাওনাদাররা। 

জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কের আখেড়া এলাকায় ওসমান গণি গত প্রায় ৪০ বছর আগে চালকল গড়ে তুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পর্যায়ক্রমে চালকলটি অটোমেটিকে রূপান্তর করে ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড নাম দেন। যেখানে কয়েক একর জায়গার ওপর পাঁচটি ইউনিট গড়ে তুলেন। যা কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

ধানের আড়তদারদের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ধান কিনে চালকল পরিচালনা করতেন। এতে ব্যবসার সুবাদে আড়তদারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এভাবে জেলা ও জেলার বাইরের প্রায় ২৬০ জন ধান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ধান কিনতেন তিনি। একপর্যায়ে কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীদের কাছে বকেয়া রাখেন প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। গত কয়েক মাস থেকে ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসমানের দূরুত্ব বাড়তে থাকে এবং তিনি টাকা আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত হন। ওসমান গণি পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করতে থাকেন। 

Advertisement

ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ

গোপনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি একটি কোম্পানির কাছে ভাড়া দেন। এরপর ধান ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন ওসমান লাপাত্তা হয়েছেন। গত দেড়মাস থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটি অন্য একটি কোম্পানির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কৌশল হিসেবে ওসমান গণি ব্যবসায় লোকসান দেখিয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার পরিকল্পনা নিয়ে আদালতে আবেদন করেছেন।

উপজেলার মাতাজি হাট এলাকার মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সামিউল আলম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ওসমান গনিকে ধান দিয়ে আসছি। প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পাওনা রয়েছি। পাওনা টাকা চাইলেই বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। আর আমরা পথে পথে ঘুরছি।

পাওনা টাকা উদ্ধার এবং ওই ব্যবসায়ীর শাস্তি দাবিতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

ধামইরহাট উপজেলার মেসার্স বেলাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু আহসান বলেন, ওসমান গনির সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি। আমন মৌসুম থেকে আর লেনদেন করা হয়নি। কিন্তু সপ্তাহে ৫০ হাজার করে টাকা দিতেন। সবশেষ ফেরুয়ারিতে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। লেনদেনের সুবাদে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে যায়। পাওনা টাকা দিচ্ছি, দেব বলে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এখন লাপাত্তা হয়ে গেছেন। কৃষকের কাছ থেকে ধান নিয়েছিলাম। তারা এখন টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

মহাদেবপুর উপজেলার ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গণি বলেন, প্রায় ৩৮ বছর থেকে ব্যবসা করছি। ব্যবসার সুবাদে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছেও আমার দেনা রয়েছে। আমার কাছে নগদ টাকা নেই। পাওনাদারদের বলেছি যে সম্পদ আছে তা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করা হবে। 

তিনি আরো বলেন, আমি গত ৩১ জানুয়ারি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আদালতে একটি আবেদন করেছি। তবে আমি আমার প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দিয়েছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!