রোববার সকাল ১০টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ২৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। তাই পায়রা বন্দর সমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরাতে চলছে মাইকিং।
তবে এদিন সকাল থেকে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই দফা উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে পানি প্রবেশের ফলে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলসহ গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একাধিক বেড়ি বাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি ও শতাধিক মাছের ঘের পুকুর। উপড়ে পড়ছে গাছপালা, বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ।
.png)
এ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১৫৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও ২০টি মুজিব কিল্লাসহ একাধিক টিকসই পাকা ভবন।
আবহাওয় অফিস বলছে, ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলাচ্ছে রেমাল। তবে রোববার মধ্যরাতে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর হয়ে উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়টি।
এদিকে, কলাপাড়া পৌরশহরে উচ্চ জোয়ারের পানি প্রবেশে আন্ধারমানিক নদী লাগোয়া দোকান ঘর তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ব্যবসায়ীদের মালামাল।
লঞ্চঘাট এলাকার চা দোকানি পরান বাবু জানান, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে তার দোকানের মালামাল এবং আসবাবপত্র জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আর ভেঙে গেছে দোকান ঘরের স্থাপনা। এছাড়া নাচনাপাড়া এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
অপরদিকে, শঙ্কায় রয়েছেন চম্মপাপুর এলাকার বাসিন্দারা। ঐ ইউপির চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দেবপুর বেড়ি বাঁধের ওপর থেকে পানি গড়িয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। রাতে ফের জোয়ারের প্রভাব পড়লে বাঁধ ভেঙে পানি গ্রামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন ইউপির একাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আমরা চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আশ্রিত মানুষকে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি। এছাড়া যেখানে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে সেখানে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।