মঙ্গলবার সকালে অভিযোগটি দুদক চট্টগ্রাম পরিচালক বরাবরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন আকবর।
তিনি বলেন, লকার থেকে সোনা চুরির একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রোকেয়া আক্তার বারী। বিষয়টি দুদকের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় থানায় মামলা রেকর্ড হচ্ছে না। আমরা অভিযোগটি মঙ্গলবার সকালে অফিসিয়ালি দুদকে পাঠিয়েছি।
.png)
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুচ্ছায়াদাত।
তিনি বলেন, দুদক চট্টগ্রাম পরিচালক বরাবরে মঙ্গলবার চকবাজার থানা থেকে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি ফাইলিং করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিকেলেই আমরা ঢাকা হেড অফিস বরাবরে তদন্ত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেবো। হেড অফিস থেকে অনুমোদিত হয়ে আসতে দু-তিনদিন সময় লাগে। এরপরই আমরা তদন্ত শুরু করবো।
ভুক্তভোগী গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী বলেন, লকার থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এস এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী এবং লকারের দায়িত্বরত অফিসার ইউনুসসহ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মনিরুল মাউলাকে অভিযুক্ত করে সোমবার রাতে চকবাজার থানায় এজাহার দিয়েছি। কিন্তু এজাহারটিকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছেন ওসি। তিনি জানিয়েছেন- এটি দুদকের শিডিউলভুক্ত, তাই তিনি অভিযোগটি দুদকে পাঠাবেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী এখন দুদক মামলা দায়ের করবে।
ব্যাংকের লকার থেকে ১৪৯ ভরি সোনা গায়েবের মতো এমন একটি অভিযোগ চট্টগ্রামজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকের অভিযোগ- ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সরিয়ে ফেলেছেন এসব সোনা। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি- গ্রাহকের অভিযোগ মিথ্যা। ব্যাংকের লকার থেকে সোনা চুরি, ডাকাতি কিংবা গায়েব হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনোটি হয়ে থাকে তবে চুক্তিপত্র অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স পাবেন গ্রাহক।
লকার থেকে সোনা গায়েবের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২ জুন) সকাল থেকে ব্যাংকটিতে ভিড় করেন গ্রাহকরা। অনেকে নিজ লকারে রক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করেন।
সম্প্রতি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের এক কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হন ক্যাশিয়ার সুজন রহমান ও তার পরিবার। ঘটনাটির রেশ না কাটতেই চট্টগ্রামে একই ব্যাংকের চকবাজার শাখার লকার থেকে সোনা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে।
বগুড়ার ঐ ঘটনায় বুধবার (২৮ মে) মামলা করেছেন চাঁপাপুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ব্যাংকের ক্যাশিয়ার গোবিন্দপুর গ্রামের সুজন রহমান, তার বাবা এনামুল হক ও মা রুবিয়া খাতুন।