ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মোরেলগঞ্জে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

বাড়ছে রোগবালাই
এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ১৪:০২, ৫ জুন ২০২৪
মোরেলগঞ্জে সুপেয় পানির তীব্র সংকট
মোরেলগঞ্জে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সুপেয় ও ব্যবহারের উপযোগী পানি পাচ্ছে না প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। এ উপজেলাটির পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের সব জলাধারে প্রবেশ করেছে সমুদ্রের লবণ পানি। গাছপালা, পাতা, হাঁস-মুরগির মৃতদেহ, ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের ময়লা আবর্জনা। এসব কারণে উপজেলার সরকারি বেসরকারি সব পুকুরের পানি পচে রঙ কালচে হয়ে গেছে। গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নিরাপদ খাবার পানি ও ব্যবহারের পানির চরম সংকটে পড়েছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত ১ হাজার ২৮৭টি পুকুর সংরক্ষিত ছিল। এরমধ্যে ১ হাজার ৩০টি পুকুরের পানি পচে গেছে। ঐ পুকুরগুলো থেকে দ্রুত পচা ও দূষিত পানি অপসারণ না করলে মাটিও দূষিত হয়ে যাবে। ফলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে। খাবার পানির জন্য মোরেলগঞ্জে প্রায় ৮ হাজার পরিবারে সরকারি বেসরকারিভাবে পাওয়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক থাকলেও ঐ পরিবারগুলোর অন্যান্য কাজের জন্য নিরাপদ পানির কোনো উৎস্য অবশিষ্ট নেই।

বারইখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাজমুল হাসান রানা বলেন, বারইখালী ইউনিয়নে জলোচ্ছ্বাসে ১০-১২টি মিষ্টি পানির পুকুর ডুবে গিয়ে ময়লা ও দুর্গন্ধতে পানি পান করার উপযোগী নয়। এমনকি রান্না করাও সম্ভব নয়। পুকুরগুলোর পানি সেচ দিয়ে ফেলে দিলে বৃষ্টির পানি পাওয়া সম্ভব হবে।

Advertisement

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গাজী ফেরদৌস হোসেন পিয়াস বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের পর আমাদের গ্রামে সুপেয় পানি পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি পুকুরে ভাসছে বিভিন্ন প্রাণীর মরদেহ। বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে আমাদের।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, রেমালের জলোচ্ছ্বাসে প্রায় শতভাগ পানির উৎস নষ্ট হয়ে গেছে। আড়াই লাখ মানুষ এখন খাবার ও ব্যবহারের নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। এরই মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ৫০ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আরো ১ লাখ ট্যাবলেট শিগগিরই পাওয়া যাবে। তবে এভাবে আড়াই লাখ মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের পরে হাসপাতালে টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও চর্মরোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অচিরেই পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!