টাকা নিয়ে টালবাহানা, ভাতার কার্ড দেননি মেম্বার
বগুড়ার শিবগঞ্জে ভাতা দেওয়ার নাম করে অসহায় বিধবার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হলেন উপজেলার ৯ নম্বর দেউলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিছুর রহমান। এই সদস্য ৩ হাজার টাকা নিয়েও ক্ষ্যান্ত হননি দাবি করছেন আরো ৪ হাজার টাকা।
জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পোড়ানগরী (সরকার পাড়া) গ্রামে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন বিধবা আলেয়া বেওয়া। স্বামী বায়েজিদ বোস্তামী ২৭ বছর আগে মারা গেছেন। তার সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। পারিবারিকভাবে মিল না থাকায় আলাদা করে সংসার করছেন ছেলে খাইরুল ইসলাম। বিয়ের পর স্বামীর সংসার করছেন মেয়ে।
আলেয়া বেওয়া জানান, প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস আগে আনিছুর মেম্বারকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলাম বিধবা কার্ড করে দেওয়ার জন্য। এখন পর্যন্ত কার্ড করে দেননি। কার্ড চাইলে নানা তালবাহানা করেন মেম্বার আনিছুর রহমান। কার্ডের কথা বললে নানা তালবাহানা করেন। দাবি করেন আরো ৪ হাজার টাকা।

.png)
তিনি আরো বলেন, এর আগে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বার রেহেনাকেও টাকা দিয়েছিলাম বিধবা কার্ডের জন্য। তিনিও কার্ড করে দেননি। পরে কিছু টাকা ফেরত দেন। এছাড়াও এলাকার কয়েকজনকে টাকা দিয়েছিলাম একটা বিধবা কার্ড করে দেওয়ার জন্য। তারাও কোনো ব্যবস্থা করেননি। বিধবা কার্ডের জন্য এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। এখন আর হাটতেও পারি না। খুব কষ্টে আছি আমি।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, টাকা নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে কার্ড করে দিতে চেয়েছি। কিন্তু আমি আলেয়া বেওয়ার থেকে কার্ডের জন্য কোনো টাকা নিইনি।
দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, কার্ডের জন্য কোনো টাকা লাগে না। একটা টাকাও যেনো কাউকে না দেয় কেউ। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, বিধবা ও বয়স্করা কোনো টাকা ছাড়াই ভাতার কার্ড পাবেন। ইউপি সদস্য আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।