ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মোবাইলে জুয়া খেলার হিড়িক, বাড়ছে অপরাধ

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১৮ জুন ২০২৪
মোবাইলে জুয়া খেলার হিড়িক, বাড়ছে অপরাধ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি, এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। এরমধ্যে স্মার্ট মোবাইল ফোনের কল্যাণে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন অনেকে। বর্তমানে মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্তও চলা যায় না৷ তবে ছোট এই মোবাইলটি অনেকেই জুয়া খেলার উপযুক্ত সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে সর্বস্ব হেরে পথে বসছেন অনেকেই।

জানা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় তাস দিয়ে জুয়া খেলা কমবেশি চললেও এখন অনলাইনে জুয়া খেলার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে যুবক-কিশোররাও। একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে চলছে জুয়া খেলা৷ অনেকে কক্ষে, রাস্তার পাশে, গাছতলায় কিংবা জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যেই মোবাইলে জুয়া খেলছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনলেও জোড়ালো অভিযান না থাকায় অনলাইন জুয়া খেলার আগ্রহ বেড়েই চলছে। ফলে বাড়ছে নানা অপরাধ। বিপথগামী হচ্ছে যুবকরা।

সূত্র জানায়, অনলাইনে জুয়া খেললে পুলিশের কাছে সহজে ধরা পড়ার ভয় নেই। কারণ জুয়া খেলার সময় পুলিশ আসলেই বলা হয় ফেসবুক চালাচ্ছে। এছাড়া জুয়ায় সহজে টাকা আয় করা যায়। এটিও জুয়ার প্রতি মানুষকে আকর্ষিত করার ফাঁদ। কয়েকবার অল্প পরিমাণে টাকা পেয়ে যারা জুয়া খেলেন, তারা লোভে পড়ে যান। কম পরিশ্রমে বেশি লাভের জন্য এরপর জুয়াড়িরা বেশি টাকা দেন জুয়ায়। যখন দেওয়া মূল টাকা ফেরত আসে না, তখন পরের বার নিশ্চয়ই ফেরত পাবে, এই আশায় আবার টাকা খরচ করেন তারা।

Advertisement

পরবর্তী সময়ে সেই টাকাও না পেলে দিশাহারা হয়ে ওই টাকা ফেরত পাওয়ার আর কোনো উপায় না পেয়ে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বারবার টাকা দিতে থাকেন জুয়ায়। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ জুয়ার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। যারা জুয়া খেলেন, তাদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা কমে যাচ্ছে। তাদের পারিবারিক বন্ধনও শিথিল হয়ে যাচ্ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করার জন্য চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ করতেও আসক্তরা দ্বিধাবোধ করেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবক বলেন, জুয়া খেলা বুঝতাম না। এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি অ্যাপের মাধ্যমে কিছু টাকা বাজি ধরলে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়। একপর্যায়ে রাজি হয়ে কিছু টাকা বাজি ধরে লাভবানও হয়েছি। এভাবে ধীরে ধীরে নিয়মিত জুয়া খেলার অভ্যাস হয়ে যায়। এ খেলায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত খেলা থেকে নিজেকে সরিয়েছি।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম বলেন, একসময় ক্রিকেট-ফুটবলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলা এবং ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়া খেলার প্রচলন থাকলেও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার যুগে মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলার হিড়িক পড়েছে তরুণদের মাঝে। যা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তরুণ-যুবকরা যেন অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর আসক্তিতে জড়িয়ে না পড়েন, সেজন্য সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানরা মোবাইল ব্যবহার করে কী করছে, তা ভালো নাকি ক্ষতিকর, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো ফারুক হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় অনলাইন জুয়াড়িদের গ্রেফতার করা হয়। তবুও মোবাইলে এ খেলা চলছেই৷ মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন কাজ। কেননা অ্যাপসের মাধ্যমে কিংবা জুয়ার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই জুয়া খেলার কারণে কারা জুয়া খেলছে কিংবা কারা সাধারণ গেমস কিংবা ফেসবুক ব্যবহার করছে তা সহজে বোঝা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, মোবাইলে সারাক্ষণ কী করছে তা পর্যবেক্ষণে রাখার মাধ্যমে সন্তান যেন স্মার্টফোনের অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে অবিভাবকদের। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার কবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করা সম্ভব। জুয়া খেলা ব্যক্তিদেরও বুঝতে হবে এটি দেশীয় আইনে নিষিদ্ধ কাজ।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!