মঙ্গলবার রাত পোনে ৯টার দিকে গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের মেরামত কাজ শেষ করে আবারো লাইনটি চালু করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে উড়ে গেছে লাখ লাখ টাকার গ্যাস। রাত থেকে বন্ধ থাকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ। এতে চরম বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা।
.png)
জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউপির নারায়ণপুর গ্রামে গড়ে উঠে ‘ডিফেং ইকোনোমিক জোন’নামে একটি চায়না কোম্পানি। তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমি ও গ্যাসের মূল সঞ্চালন লাইনসহ এরিয়া বা সীমানা প্রাচীর করেছে ওই কোম্পানি। বালু ভরাটের ফলে কোম্পানির সীমানার ভেতরের অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপ।
সোমবার সকালে নিজেদের দখলে থাকা তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর ডিফেং ইকোনোমিক জোনের স্থাপনা নির্মাণের কাজ করতে গেলে পাইলিং পড়ে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপের ওপর। এতে ফুটো হয়ে যায় সঞ্চালন লাইন। বড় মাপের ওই ছিদ্র দিয়ে সকাল ৭টা থেকে নির্গত হতে থাকে গ্যাস। ৯টার দিকে খবর পেয়ে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকার সমাধান না করতে পারায় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের মেরামতের জন্য গ্যাস লাইনটির শাটডাউনে যায়।
সোমবার রাত ১১ টার পর থেকে ত্রিশাল, ভালুকা, ময়মনসিংহ নগরী, মুক্তাগাছা ও জেলা শহর নেত্রকোণা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। এতে করে ২৪ ঘণ্টার অধিক সময়ে উড়ে যায় লাখ লাখ টাকার গ্যাস।
এতে এসব অঞ্চলের গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় বাসাবাড়ির রান্নাবান্না। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় দোকান থেকে শুকনো খাবার বা হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে অনেককে। এর প্রভাব পড়ে বিভিন্ন কলকারখানাগুলোতেও। এছাড়াও রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড আরপিসিএল শম্ভুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিও উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় পড়ে।
ময়মনসিংহ নগরীর বাসিন্দা হোসাইন আলী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।
ত্রিশাল পৌরসভার বাসিন্দা খোরশিদুল আলম জানান, হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছি আমরা।
গ্যাসের ব্যাপক ক্ষতি ও লক্ষাধিক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ায় ডিফেং ইকোনোমিক জোন কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্টরা। তবে কত ঘনফুট গ্যাস উড়ে গেছে তা নির্ণয় করতে পারেননি তারা।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির উপ-সহকারী প্রকৌশলী হামিদুল হক জানান, শাটডাউন গত রাত ১১টার পর শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিশাল, ভালুকা, ময়মনসিংহ নগরী, মুক্তাগাছা ও নেত্রকোণা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রয়েছে।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির ডিজিএম নারায়ন চন্দ্র দে জানান, গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের মেরামত কাজ রাত পোনে ৯টার দিকে শেষ হয়েছে। এরপর আবারো চালু হয়েছে গ্যাস সঞ্চালন লাইন।
ক্ষতিগ্রস্তের জন্য দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে গ্যাস সঞ্চালন স্বাভাবিক হোক, তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ডিফেং ইকোনোমিক জোনের দায়িত্বে নিয়োজিত স্থানীয় আরিফুল হক এরশাদ বলেন, গ্যাস লাইনের চিহ্নিতকরণ কোন খুঁটি না থাকায়, অসর্কতাবশত এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।