চট্টগ্রামে পৌঁছানোর আগেই চলন্ত উদয়ন এক্সপ্রেসে নৃশংসতার স্বীকার হন এক তরুণী। ট্রেনটিতে চট্টগ্রামে আসছিলেন তিনি।
জানা গেছে, ট্রেনটি যখন ভোর ৪টার দিকে লাকসাম অতিক্রম করছিল, তখন চলন্ত ট্রেনে ঐ তরুণীকে ধর্ষণ করেন ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী। ট্রেনটি চট্টগ্রামে পৌঁছালে ঘটনা জানাজানি হয়। এরপরই অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিনজনকে ও পরে বৃহস্পতিবার ভোরে আরো একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শরীফ, মো. জামাল ও মো. রাশেদ ও আবদুর রব রাসেল। এ ঘটনায় ট্রেনটির পরিচালক (গার্ড) আবদুর রহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদয়ন এক্সপ্রেসে চট্টগ্রামে আসছিলেন ২০ বছর বয়সী ঐ তরুণী। ভৈরব থেকে ওঠে খাবার বগিতে অবস্থান করছিলেন তিনি। ঐ সময় তাকে প্রথমে উত্ত্যক্ত এবং পরে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভৈরবে আত্মীয়ের সঙ্গে থাকেন ঐ তরুণী। তার বাড়ি বান্দরবানে। বাড়িতে যাওয়ার জন্যই চট্টগ্রামে আসছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, উদয়ন এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ঐ তরুণী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী (ক্যাটারিং সার্ভিস) প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে রেলওয়ে। চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচল করা উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে খাবার সরবরাহ করতো প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার রাতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকীর সই করা এক অফিস আদেশে কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত মঙ্গলবার রাতে সিলেট স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ক্যাটারিং সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের কর্মচারীদের দ্বারা একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে এস এ কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।
এস এ কর্পোরেশন নামে ক্যাটারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটির মালিক কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদ শাহ আলম। রেলের বিভিন্ন ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস ও ঠিকাদারি ব্যবসা রয়েছে তার।