এ বাড়ির গ্যারেজে একটি সাদা রঙের টয়েটো ‘হ্যারিয়ার’ গাড়ি। এ গাড়িতে ফয়সালের স্ত্রী আফসানা জেসমিন ও স্বজনরা খুলনায় চলাচল করতেন। এছাড়া খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নী এলাকায় প্রায় দুই বিঘা জমির একটি প্লট রয়েছে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের। তার বাবার নাম কাজী আব্দুল হান্নান ওরফে হিরু কাজী।
২৯ জুন এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের খুলনার বাড়িগুলোতে সরেজমিন দেখা গেছে গেটে তাল মারা। ভেতরে লোকজন থাকলেও কেউ গণমাধ্যমের সামনে আসেনি। এমনকি স্থানীয়রাও কেউ এ সচিবের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না।
.png)
এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের ঢাকার প্লট-ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব আদালত ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার পর খুলনায় তার সহায়-সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে তার খুলনার বাড়ির সামনে থেকে নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহফুজুর রহমান লিটন সংবাদকর্মীদের জানান, এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের পরিবারকে স্থানীয় সম্পদশালী হিসেবে জানে। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন খুলনায় টয়েটা ‘হ্যারিয়ার’ গাড়িতে ঘোরাফেরা করতেন।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বাড়ি খুলনায় হওয়ায় প্রথমে আমাদের গর্ব ছিল। কিন্তু এখন তা আমাদের জন্য লজ্জাকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এসব দুর্নীতির অর্থের প্রাসাদের খবর দেখে আমরা বিস্মিত। সরকারের উচিত এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অবিলম্বে শাস্তির আওতার আনা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়ালে যেসব আইন ও বিধির মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, সেসব আইন ও বিধি শিথিল করা হয়েছে যে কারণে শাস্তির মাত্রা কমে গেছে। এতে সরকারি-কর্মচারীদের দুর্নীতি-অনিয়ম বেড়েছে।
তিনি দাবি জানান, দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তি সরকারের কোষাগারে নিয়ে নেয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ জুন এনবিআর প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন। এরপর একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের দুর্নীতির টাকায় গড়া সম্পদের পাহাড়ের খবর।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আদালতে জমা দেওয়া নথি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুদক এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা জমা হওয়া এবং পরে তার বড় অংশ উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে। ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তার শাশুড়ি মমতাজ বেগম পেশায় গৃহিণী।
দুদক বলছে, ফয়সাল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজের ও স্ত্রীর নামে রাখার পাশাপাশি স্বজনদের নামেও রেখেছেন। শ্বশুর ও শাশুড়ির নামের ব্যাংক হিসাবে যে অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা ফয়সালেরই অপরাধলব্ধ আয়।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ও তার ১১ স্বজনের নামে ১৯টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮৭টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে তার শ্বশুর-শাশুড়ির ব্যাংক হিসাবে। ফয়সাল তার অপরাধলব্ধ আয় লুকানোর জন্য স্বজনদের নামে ৭০০টির মতো ব্যাংক হিসাব খুলেছিলেন। এরমধ্যে দুদক ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে।