স্থানীয় লোকজনরা দ্রুত এ ব্রিজটি সংস্কার বা নির্মাণের দাবি জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের বড়বাজার এলাকায় পুরাতন বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন তিতাস নদীর ওপর ১৯৯৭ সালে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এই ব্রিজটি নির্মাণের ফলে বড়বাজার, শান্তিনগর, শ্যামনগর, বরিশল, ঘাটিয়ারা, চরনারায়নপুরসহ অন্তত ৭-৮ গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করছে। বর্তমানে এই ব্রিজের মাঝখানের বেশ কিছু অংশ ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে উভয় পাশের রেলিংও। এ অবস্থার ফলে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ওইসব গ্রামের লোকজনরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। দিন দিন ব্রিজের গর্ত বড় হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন ব্রিজের অবস্থা খুবই নাজুক হওয়ায় এটি ভেঙে নতুন করে করা হবে। নতুন করে নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।
.png)
পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষার্থী রোমা আক্তার বলেন, প্রতিদিন বড়বাজার হয়ে এই ব্রিজ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতে। এই পথে আসা যাওয়া করলে আমাদের অনেক সময় কম লাগে। ঝামেলা ও পোহাতে হয় না। বেশ কিছু দিন ধরে এই ব্রিজটি ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে চলাচল করতে ভয় করছে। ব্রিজটি যে অবস্থায় আছে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশাল গ্রামের বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, প্রয়োজনীয় কাজে আমাদের দৈনিক আখাউড়ায় আসতে হয়। সময় বাঁচাতে বড় বাজার হয়ে এই পথে ব্রিজের ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছি। বেশ কিছুদিন ধরে ব্রিজের মাঝখানের অংশ ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আমাদের প্রতিনিয়ত যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। তাই দ্রুত এই ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, বড় বাজার এলাকায় এটি হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। এই ব্রিজ দিয়ে অন্তত ৭-৮ গ্রামের মানুষের চলাচল করছে। বর্তমানে এই ব্রিজটি বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। একদিকে ব্রিজের মাঝখানে ভেঙে গর্ত সৃষ্টি ও অন্য দিকে দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। এতে করে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
তিনি আরো বলেন, দিন দিন গর্ত বড় হওয়ায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এটি দ্রুত নির্মাণ করার দাবি জানান ।
শান্তি নগর এলাকার গৃহিণী ফরিদা বেগম বলেন, বর্তমানে এই ব্রিজের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। দিন দিন গর্ত বড় হওয়ায় এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে ভয় করে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শিপন হায়দার বলেন, এই ব্রিজটি খুবই একটি পুরনো ব্রিজ। ব্রিজটি ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি । আশা করছি দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ কাজ করা হবে।
আখাউড়া পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী মো. তানভীর হোসেন বলেন, আসলে এই ব্রিজটি অনেক দিনের পুরনো একটি ব্রিজ। এরইমধ্যে গর্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্রিজটি যে অবস্থা আছে তাতে জোড়াতালি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতি শিগগিরই ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।