স্থানীয়রা জানান, দিঘীরপাড় বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা শাখা নদী। বাজারের পূর্বপাশে রয়েছে দিঘীরপাড় চর। আর এ পদ্মা শাখা নদী পাড়ি দিতে এখন ভরসা কেবল ট্রলার। ট্রলার করেই দিঘীরপাড় বাজার থেকে দিঘীরপাড় চর যাচ্ছে স্থানীয়রা। এ শাখা নদী পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা শরীয়তপুরের নওপাড়া, চরআত্রা, কাচিকাটা, কুন্ডেরচর ও কুরবি মনিরাবাদ ঘোড়িশাল এবং চাদপুরের হাইমচরর বাসিন্দারা পদ্মার চরে ছুটে যাচ্ছেন। পরে পদ্মার চরে হেঁটে মূল পদ্মা নদীতে গিয়ে ট্রলারে করে তারা গন্তব্যে পৌছান।
কাজেই পদ্মা শাখা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ কম আসতো বলে মনে করছেন তারা। কেননা শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা সহজ যোগাযোগ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এ পথে যাতায়াত করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই।
.png)
এ পথ মূল পদ্মা পাড়ি দিয়ে আবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় বাজার লাগোয়া পদ্মা শাখা নদী পারাপার হয় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যেকোন স্থানে যাতায়াতে তাদের সময় কম লাগে। মূল পদ্মা নদী ট্রলারে পাড়ি দিলেও দিঘীরপাড় বাজারের পদ্মা শাখা নদী পাড়ি দিতে ট্রলারের জন্য তাদের বসে থাকতে হয় বেশ সময় ধরে। আবার মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপারে খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ এখানে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু হলে তাদের সেই দুর্ভোগ লাগব হতো।
দিঘীপার বাজারে গেলেই চোখ পড়ে ট্রলারভর্তি করে নদীর পশ্চিমপাড় থেকে মানুষজন আসছেন। ট্রলার থেকে নেমে তাদের প্রয়োজন দিঘীরপার বাজার, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ শহর ও রাজধানীর ঢাকার দিকে ছুটছেন। একইভাবে প্রয়োজন শেষে এখান থেকে ট্রলারভর্তি করে নদীর পশ্চিম পাড়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও নদীর উত্তর এবং দক্ষিণ পাশ থেকে ট্রলারভর্তি করে দিঘীরপাড় হাট কেউ মালামাল বিক্রি করতে আসছেন। কেউ কেউ আবার এ হাট থেকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থলীর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সব কিছুই হচ্ছে ট্রলারের ওপর ভরসা করে।
শরীয়তপুরের কাচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইয়াসিন বেপারী জানান, তিনি কাজের সুবাদে এ পথ হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা শরীয়তপুরের মানুষ হলেও আমাদের সব কাজকর্ম মুন্সীগঞ্জই সুবিধা। আমাদের হাট বাজার করতে হয় দিঘীরপাড় বাজারে। ঢাকায় যাই এ পথ দিয়ে। রাতে ট্রলার পাওয়া যায় না। ট্রলার পেলেও ৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা গুনতে হয়। নদীপথে সময় লাগে বেশি। যদি দিঘীরপার বাজার এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হতো, তাহলে আমাদর এত ঝামেলা পোহাত হতো না। খুব সহজে সড়ক পথে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ যেতে পারতাম।
জেলা শহররে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি সপ্তাহে চারদিন ট্রলার করে পদ্মার শাখা নদী পারাপার হয় শহরে আসা-যাওয়া করেন।
মোবারক বলেন, দিঘীরপাড় খেয়াঘাট থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব দুই কিলোমিটার। নদীর পশ্চিমপাড় সড়কের অবস্থাও তেমন ভালো না। আবার শাখা নদীর পারে এসে ট্রলারের জন্য প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট বসে থাকতে হয়।
শরীয়তপুর জেলার খান বাজার এলাকার হোসেন খা বলেন, ট্রলারে করে হাঁস এবং ছাগল নিয়ে এসেছি। তবে একটা ব্রিজ হলে ভালো হতো, গাড়িতে করে সরাসরি হাটে আসতে পারতাম।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. শাহ মায়াজ্জম জানান, দিঘীরপাড় বাজার লাগোয়া পদ্মা শাখা নদীর ওপর ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ এবং নদীর পশ্চিম পাশে ৪ কিলোমিটারের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতু নির্মাণের লক্ষ্য প্রাথমিকভাবে মাটি পরীক্ষা ও সার্ভে কাজ সম্পন্ন করেছে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল। এখন নকশা করে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। বরাদ্দ হলে দরপত্র আহবান করা হবে। আর বরাদ্দ পেলে আগামী বছরের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে বলেও জানান তিনি।