ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দিনে ২ বার জোয়ারের পানিতে ভাসে মোরেলগঞ্জ  

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ২৫ জুলাই ২০২৪
দিনে ২ বার জোয়ারের পানিতে ভাসে মোরেলগঞ্জ  
জোয়ারের পানিতে প্লাবিত মোরেলগঞ্জ শহরের চিত্র

পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে দিনে-রাতে দুবার ভাসছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহরসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রাম। ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। জোয়ার হলেই ৩-৪ ঘণ্টা দোকান বন্ধ রাখেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ফলে স্থবির হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি দাফতরিক ও শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, গত ৪ দিন ধরে বেলা ১১টার দিকে শহরের কাপুডিয়াপট্টি সড়ক, কাঁচাবাজার, কেজি স্কুল সড়ক, ফেরীঘাট সংলগ্ন কালাচাঁদ মাজার এলাকা, সানকিভাঙ্গা ও বারইখালী গ্রামে স্বাভাবিক চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দুপুরের রান্না হচ্ছে না বারইখালী ফেরিঘাট এলাকা ও খাউলিয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়ীয়া গ্রামে। 

পৌর শহরের ফল ব্যবসায়ী মো. লাল মিয়া, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, পূর্ণিমার জোয়ার আসলেই দোকানে বেচা-বিক্রি হয় না। ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটাতে হয়। পূর্ণিমা ও সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌর শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। 

Advertisement

সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, গাবতলা গ্রামটি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় পানির প্রবাহটা সেখানে বেশি। ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার নিয়মিত পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করে আসছেন। দিনে ও রাতে দুবার পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ওই গ্রামের কোনো বাড়িতে রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাড়িঘর সব তলিয়ে গেছে। 

অপরদিকে খাউলিয়া ইউনিয়নে দেখা গেছে, সন্ন্যাসী হয়ে কেয়ার বাজার পাকা রাস্তাটি পানির চাপে ভেঙে সেখানে একটি খাল হয়ে গেছে। 

খাউলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাষ্টার সাইদুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে ছয়টি রাস্তা পানির তোরে ভেঙে গেছে।

নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন জানান, তার ইউনিয়নের উত্তর ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার পানির নিচে। 

জোয়ারের পানিতে প্লাবিত মোরেলগঞ্জ শহর

জিউধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশা জানান, তার ইউনিয়নে পালেরখন্ড, কাকড়াতলী, শনিরজোড়, সোনাতলা ও চন্দনতলা গ্রামে অতিরিক্ত পূর্ণিমার জোয়ারেও তলিয়ে গেছে প্রায় ২৫টি গ্রাম। জোয়ারের পানিব ঘেরে ঢুকে বেড়িয়ে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

পঞ্চকরণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান, সোনাখালী স্লুইস গেট হয়ে দেবরাজের সাত কিলোমিটার মিনি বেড়িবাঁধ ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ভেঙে গেছে। এখন পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে অনেক গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। দুপুরে তাদের রান্না-বান্নাও হয় না। 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার বিনয় কুমার রায় বলেন, পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বহরবুনিয়া ইউনিযনের ছোট বড় কয়েকটি ঘের তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সব ইউনিয়নের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জোয়ার-ভাটায় এলাকার ফসলি জমির তেমন কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।  তাছাড়া এখানে জলাবদ্ধতা স্থায়ী নয়, তাই ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!