ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সড়ক নয় যেন চাষের জমি

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ৩ আগস্ট ২০২৪
সড়ক নয় যেন চাষের জমি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া সড়ক

দেখলে মনে হবে এটি সড়ক নয়, যেন চাষের জমি। পুরো সড়কজুড়ে স্থানে স্থানে গর্ত আর কর্মমাক্ত হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কটি যেন হাল চাষের জমিতে পরিণত হয়। এই সড়কে গাড়ি চলাতো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া সড়কের। এই সড়কে প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ, স্কুল-মাদরাসা শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীসহ পথচারীরা।

জানা যায়, সীমান্তবর্তী উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের হাওড়া নদীর পাড়-ছয়ঘড়িয়া সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কটি হাওড়া নদী পাড় থেকে ছয়ঘড়িয়া শাহআল উচ্চ বিদ্যালয় পযর্ন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘ বছর ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এই বেহাল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আদমপুর, জয়নগর, ছয়ঘড়িয়া, খলাপাড়াসহ অন্তত ৬ গ্রামের মানুষ বিভিন্ন প্রকার যানবাহনসহ হেঁটে চলাচল করছে। বর্তমানে এই সড়কে গাড়ি চলাতো দূরের কথা কোনো মানুষই হেঁটে যাতায়াত করতে পারছে না। 

সড়কের অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি কি সড়ক নাকি চাষের জন্য প্রস্তুত করা কোনো জমি। তাই কাদা আর গর্ত দেখে অনেক যাত্রী এই সড়ককে ধানক্ষেত বলছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারে টেন্ডার হলে ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে কাজ শুরু করা হয়নি। এরই মধ্যে কাজের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হতে চলছে। এই সড়কের কাজ কবে শুরু হচ্ছে সহসায় কেউ বলতে পারছে না। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Advertisement

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া পযর্ন্ত প্রায় দেড় কিমি সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১ বছর ২ মাস। এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলছে কিন্তু কাজ শুরু হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া সড়ক

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় ১ কিলোমিটার রয়েছে কাঁচা সড়ক। এই সড়কে কোথাও ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে পানি আর কাদা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত সড়কে পানি জমে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানি জমে থাকে। কাদায় নিয়মিত আটকা পড়ছে ছোট বড় গাড়িও। ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা নিত্যদিন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন এ সড়কটি সংস্কার কাজ না করায় বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকার চলাচলের জন্য সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই কাঁচা সড়ক দিয়ে ৬ থেকে ৭ গ্রামের মানুষ কষ্ট করে চলাচল করছে। বর্তমানে সড়কটি স্থানে স্থানে গর্ত সৃষ্টি আর কর্দমাক্ত হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, এই কাঁচা সড়কটি সংস্কার করতে একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাওয়া হয়েছে। সবাই আমাদের শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে। এই সড়কের মাঝখানে দুটি বিদ্যালয় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়ক কর্দমাক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া কোন অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে কষ্টের যেন শেষ নেই।

স্কুলছাত্রী  আফসানা আক্তার ও জুঁই আক্তার বলেন, আমাদের এই কাঁচা সড়কটি খুবই বেহাল। সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় করে। অনেক সময় পা পিচলে পড়ে বই জামা সব ভিজে যায়।

রিকশা চালক রুবেল মিয়া জানান, এমনিতে এই সড়ক খানাখন্দ হয়ে আছে। আর সামান্য বৃষ্টি হলে পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হওয়ায় রিকশা চালানো যায় না।

মোগড়া ৭ নম্বর ইউপি সদস্য মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। সড়কটি সংস্কার করতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যোগাযোগ করা হয়। গত বছর সড়কটি সংস্কার করতে দরপত্র হয়েছে। ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে তাগাদা দিয়ে আসছি দ্রুত কাজ শেষ করতে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া এই বেহাল কাঁচা সড়কটি সংস্কার করতে ২০২৩ সালে দরপত্র দেওয়া হয়। এই কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছির ১ বছর ২ মাস। কাজ শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত মো. খাইরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা  প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হাওড়া নদী পাড়-ছয়ঘড়িয়া কাচা সড়কটি বেহাল থাকায় সংস্কার করতে দরপত্র হয়েছে। ঠিকাদার কাজ পেয়ে নানা অজুহাতে সময় পার করছেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজটি দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!