ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

আমন ধান আবাদে ব্যস্ত কৃষক

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ১৪ আগস্ট ২০২৪
আমন ধান আবাদে ব্যস্ত কৃষক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কৃষকেরা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদ শুরু করেছেন। এরইমধ্যে তারা জমিতে হালচাষ, সেচপানি দিয়ে জমি প্রস্তুতসহ চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহ নিয়ে আমন ধান আবাদে তারা মাঠে নেমে কাজ করছেন। বোরোর চেয়ে আমন ফলন ভালো করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রোপণকৃত জমির মধ্যে ব্রি-৭৫, ৮৫, ৮৭, ৯৩, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ১০৩ জিআর ২২সহ নানা জাতের উন্নত ফলনশীল ধান রয়েছে। এই মৌসুমে আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৬শ’ কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।

সরেজমিন পৌর এলাকার তারাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর, উপজেলার হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর, ধাতুরপহেলাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকেরা আমন ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আমন চাষ আবাদে শ্রমিক সংকট থাকায় মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পৌর শহরের তারাগন এলাকার কৃষক মো. জমির খান জানান, চলতি মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করা হবে। এরইমধ্যে ২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলো আবাদ করতে প্রস্তুত করেছেন। 

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিতে ৫শ’টাকা খরচ হচ্ছে। ধানের চারা লাগাতে ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে চাষাবাদে খরচ কয়েকগুন বেড়ে গেছে। তবে ধান আবাদে ফলন ভালো ও ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে লাভবান হওয়ার আশা করছি।

উপজেলার মোগড়া এলাকার কৃষক মো. বাছির মিয়া জানান, এ মৌসুমে আমন ধান আবাদ করতে সহায়তা হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার পেয়েছেন। গত বোরো মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার ৭ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রি- ৯৩-৯৫ ও ১০৩ জাতের ধান আবাদ করা হবে। এরইমধ্যে ২ বিঘা জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। শ্রমিক সংকট থাকায় আগামী সপ্তাহে আশা করছেন ধান চারা লাগানো শুরু হবে। জমিতে ধানের ভালো ফলনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

কৃষক মো. লোকমান মিয়া জানান, গত মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাই এ মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করতে জমি প্রস্তুত করেছেন। এরইমধ্যে ২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, তাহলে অনেক লাভবান হবেন।

কৃষক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যেভাবে চালের দাম বাড়ে, সে অনুযায়ী ধানের দাম বাড়ে না। ধান আবাদে খরচ তুলনামূলক অনেক বেড়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। গত আমন মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ৮ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করা হবে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান আবাদ করতে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান আবাদ শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৬শ’ কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। এ মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন বৃদ্ধিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদে উৎসাহিত করছি।

তিনি আরো বলেন, গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকে লাভবান হয়েছেন। সেই আশা থেকে চাষিরা আমন রোপণ শুরু করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে এবং সেচ ব্যবস্থা ঠিকমতো থাকলে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!