সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে নগরীর ইলিশ মোকাম পোর্ট রোড বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের আমদানি খুব কম। তাই শ্রমিকদের মাঝেও ব্যস্ততা নেই।
পোর্ট রোডের আড়ৎ কর্মচারী মো. রানা বলেন, মোকামে আগের মতো মাছ আসছে না। গত কয়েকদিন ধরে পোর্ট রোড মোকামে সর্বোচ্চ ৫০ মণ মাছ বেচা-বিক্রি হয়েছে।
.png)
তিনি আরো জানান, বাজারে সর্বোচ্চ এক কেজি দুইশ’ গ্রাম সাইজের মাছ এসেছে। এর আগে দেড় কেজি থেকে এক কেজি সাতশ’ গ্রাম সাইজেরও মাছ এসেছিল। পাইকারি দরে এক কেজি দুইশ’ গ্রাম সাইজের ইলিশ প্রতিমণ ৬২ হাজার, কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিমণ ৬০ হাজার, কেজির নিচে এলসি সাইজের ইলিশ ৫৭ থেকে ৫৮ হাজার, পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী বাজারে প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ নদীর ১৫-২০ মণ ইলিশ মাছ বিক্রি হয়।
ওই বাজারের পাইকারি বিক্রেতা নাঈম সিকদার জানান, গত তিনদিন ধরে কোনো মাছ আসে না। সবশেষ শুক্রবার বাজারে ৮-১০টি ইলিশ মাছ এসেছিল। ইলিশ না পেয়ে জেলে থেকে ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছি।
একই কথা জানিয়েছেন, নগরীর বেলতলা বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন।
জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, সমুদ্রে ইলিশ শিকারের জন্য ২৮ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকে। এরমধ্যে ১৫ জুন থেকে ২৩ জুলাই বাড়তি নিষেধাজ্ঞা থাকে কিন্ত ওই সময় ভারতের জেলেরা এসে মাছ শিকার করে। ইলিশ সমুদ্রের মাছ। বাংলাদেশি জেলেরা সমুদ্র থেকে তেমন মাছ শিকার করতে পারে না। যা ভারতের জেলেরা করতে পারে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশি জেলেরা সমুদ্রে যায় না। সেই সুযোগে ভারতের জেলেরা অত্যাধুনিক জাল দিয়ে মাছ শিকার করেন। ফলে সমুদ্র ইলিশ শূন্য হওয়ায় এখন অভ্যন্তরীণ নদীতে মাছ নেই।
তিনি আরো বলেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। ভারত ২০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে। একইসময় বাংলাদেশেও নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলে সমস্যা আর থাকবে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, মাছের উৎপাদন ঠিকই আছে। সমস্যা হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় এখন আর জেলেদের আড়তে আসতে হয় না। যেমন মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা ও ভোলার জেলেরা মাছ ধরে সরাসরি ঢাকা কিংবা চাঁদপুরে নিয়ে যায়। আবার বরগুনা ও পটুয়াখালী এলাকার জেলেরা সড়কপথে সরাসরি ঢাকায় পাঠাচ্ছে। এজন্য স্থানীয় বাজারগুলোতে চাহিদার বেশি ইলিশ সরবারহ হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশের হেরফেরের কারণে বর্ষার ব্যাপ্তি হয়েছে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। ভারী বর্ষণ হলে ইলিশও প্রচুর ধরা পড়বে।