সৌর বিদ্যুতে চলছে মোটরবাইক
২২ ভোল্টের দুটি ব্যাটারি আর ৬০ ওয়াটের সোলার প্যানেল দিয়ে চলছে মোটরবাইক। সৌরবিদ্যুৎ চালিত এ বাইকটির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। বাইকটি সড়কে চালানোর পাশাপাশি এটির ব্যাটারি দিয়ে দুটি টিউবলাইট ও একটি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাবে। এটির ব্যাটারি সূর্যের আলো ছাড়াও বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বাইকটির ব্যাটারি কম বিদ্যুৎ খরচে পূর্ণ চার্জ করা যাবে। তাছাড়া এ যানটি শব্দ ও বায়ু ধূষণমুক্ত হওয়ায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এমনই বাইক উদ্ভাবন করেছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এনামুল হক বুলবুল। সৌরবিদ্যুৎ চালিত মোটরবাইক উদ্ভাবন হইচই ফেলে দিয়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে। উৎসুক জনতার অনেকে একনজর বাইকটি দেখার জন্য বুলবুলের বাড়িতে ভিড় করছেন।
জানা গেছে, পৌরসদরের হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা তরুণ উদ্যোক্তা এনামুল হক বুলবুল। তিনি এমবিআই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিন ভাইয়ের মধ্যে এনামুল হক বুলবুল সবার বড়। বাবা এনজিওতে চাকরি করতেন। মা সুফিয়া আক্তার পরিবার পরিকল্পনার স্বাস্থ্য পরিদর্শক। শিক্ষিত পরিবারের সন্তান হয়েও পড়াশোনায় তেমন মনযোগ না থাকায় এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলায় তার এমবিআই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১০টি ব্রাঞ্চ রয়েছে।
.png)
পড়াশোনায় তেমন এগোতো না পারলেও বুলবুলের ছিল উদ্ভাবনী প্রতিভা। ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু করার প্রয়াস ছিল তার। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ চালিত চার চাকার যান ও অটোরিকশা তৈরি করেছেন তিনি। যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে খুবই সাড়া ফেলছিল।
এনামুল হক বুলবুল জানান, দীর্ঘ তিন বছর চেষ্টার পর তিনি এই বাইকটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি তৈরি করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে ২২ ভোল্টের দুটি ব্যাটারি ও ৬০ ওয়াটের সোলার প্যানেল রয়েছে। এ বাইকটির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। বাইকটি সড়কে চালানোর পাশাপাশি এটির ব্যাটারি দিয়ে দুটি টিউবলাইট ও একটি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাবে। এটির ব্যাটারি সূর্যের আলো ছাড়াও বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বাইকটির ব্যাটারি কম বিদ্যুৎ খরচে পূর্ণ চার্জ করা যাবে। তাছাড়া এ যানটি শব্দ ও বায়ু ধূষণমুক্ত হওয়ায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।
বুলবুল দাবি করেন, বাইকটিতে সম্পূর্ণ চার্জ হলে এতে চড়ে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। দেশে চীনের তৈরি বৈদ্যুতিক বাইক পাওয়া গেলেও এগুলোর দাম অনেক বেশি। সেখানে তার তৈরি সোলার বাইকটির খরচ পড়বে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। এটি তৈরি করতে সময় লাগে এক থেকে দুইদিন।
বুলবুল বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে এই সোলার বাইক তৈরি করে দেওয়ার জন্য অর্ডার পাচ্ছি। এটি বাজারজাতকরণের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বুলবুল ভাই প্রতিভাবান একজন মানুষ। তার এই বাইক দেখতে দূর-দূরান্তের লোকজন এখানে ছুটে আসছেন। কীভাবে তৈরি করছেন তা জানতে এবং নিজ চোখে দেখতে প্রতিনিয়ত বাড়ির সামনে মানুষ আসছেন। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব।
রাকিবুল হাসান নামে এক যুবক বলেন, সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বাইক তৈরির খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। পরিবেশবান্ধব এ যানটি আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। বুলবুল ভাইয়ের মাধ্যমে আমি এটি তৈরি করতে চাই।