ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বন্যায় কোন জেলায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:২৩, ৩০ আগস্ট ২০২৪
বন্যায় কোন জেলায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ। বর্তমানে সার্বিকভাবে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১১ জেয়ায় ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলো হলো- ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার।

Advertisement

সার্বিকভাবে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বন্যায় ৪টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৪৮৬টি। ১১ জেলায় মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭ জন।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলমান বন্যায় মারা গেছেন এখন পর্যন্ত ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ-৪১, নারী-৬ ও শিশু ৭। জেলাভিত্তিক মারা গেছেন কুমিল্লা-১৪, ফেনী- ১৯, চট্টগ্রাম-৬, খাগড়াছড়ি-১, নোয়াখালী-৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, লক্ষ্মীপুর-১ ও কক্সবাজার ৩ জন ও মৌলভীবাজার ১ জন। এখনো মৌলভীবাজারে নিখোঁজ রয়েছের একজন।

বন্যায় ৮ হাজার কিলোমিটার সড়ক ক্ষতি:

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২০ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বন্যায় আট হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং এক হাজার ১০১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়ক ১০৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১২৪ কিলোমিটার, জেলা সড়ক ৫৩৪ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক সাত হাজার ৭২২ কিলোমিটার। এ ছাড়া এক হাজার ১০১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফেনীতে মৎস্য খাতে ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি:

ফেনীর সবকটি উপজেলাতেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে আকস্মিক এই বন্যা। এতে অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি ও ছোট-বড় পুকুর তলিয়ে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৎস্য খাতে রেণু, পোনা, বড় মাছ ও পুকুরের অবকাঠামো মিলে ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। 

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে জেলার ছয়টি উপজেলায় বন্যায় মাছ চাষিদের ২৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে একক ও যৌথ মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৭৬০টি পুকুর-দিঘি। এসব পুকুর থেকে ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বড় মাছ এবং ৯৭ লাখ টাকার মাছের পোনা ভেসে গেছে। এ ছাড়া জেলায় খামারিদের ৫৪ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লায় বন্যায় ৮৪৮ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি:

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৪ উপজেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ফসল আবাদ করা হয়েছিল। বন্যায় ৬৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ফসলের মধ্যে রোপা আমন বীজতলা ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর ও ধান ২৩ হাজার ৩০৯ হেক্টর, শাকসবজি ২ হাজার ১৯ হেক্টর, রোপা আউশ ৩৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর, বোনা আমন ৩৩৫ হেক্টর এবং ২১৬ হেক্টর আখ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে ২০ হাজার ৬৪১ হেক্টর রোপা আমন, ১ হাজার ৬১৫ হেক্টর খরিপ শাকসবজি, ২০ হাজার হেক্টর রোপা আউশ এবং ১১ হেক্টর আখ ফসলের জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০৪ হেক্টর শাকসবজি, ১৩ হাজার ৪৩২ হেক্টর রোপা আউশ এবং ২০৫ হেক্টর আখ ফসলের জমি।

ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে আছে ২২৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার রোপা আমন বীজতলা, ২৬৯ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রোপা আমন, ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শাকসবজি, ২৯৭ কোটি ৮৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার রোপা আউশ এবং ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার আখের ফসল।

কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী জানান, কুমিল্লা জেলাজুড়ে ১২৫টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ২ লক্ষাধিক পরিবার। জেলাজুড়ে ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ও বন্যায় পানিবন্দিদের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত বয়স্ক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য ২০৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

আখাউড়ায় মৎস্য খাতে সাড়ে ১২ কোটি টাকার ক্ষতি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বন্যায় মৎস্য খাতে অন্তত সাড়ে ১২ কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯৮.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় মোট গ্রাম রয়েছে ১৩০টি। এরমধ্যে ছোট বড় পুকুরসহ প্রজেক্ট রয়েছে ২,৩৪৮টি, বিল রয়েছে ১৩টি, নদী ৩টি, খাল ৩টি ও প্লাবন ভূমি রয়েছে ৮টি। পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় ৪৩০টি ছোট বড় পুকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে ৪৫৬.৭৯০ মেট্রিক টন মাছ। যার মধ্যে পোনা মাছ রয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ। বড় মাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার, পোনা মাছ ৩ কোটি ৪৫ লাখ এবং অবকাঠামো ১০ লাখসহ মোট ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় কৃষিখাতে প্রায় ৩৯৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি:

চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা ও নগরীর আংশিক এলাকায় কৃষিখাতে প্রায় ৩৯৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আমনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫২ কোটি টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপণ করেছে।

চাঁদপুরে কৃষিখাতে যত ক্ষতি:

আমন ধান চাষাবাদে ১০ হাজার ৭১০ জন কৃষকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা সমমূল্যের ৪ হাজার ১৪১ টন উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও জেলার শাকসবজিতে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমির ফসল। ফসল উৎপাদনে ৭ হাজার ৬২০ জন কৃষকের প্রায় ২৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ৭ হাজার ৬০৫ টন ক্ষতি হয়েছে। জেলায় পান চাষাবাদের উৎপাদনে ১০৮ জন কৃষকের প্রায় ৪ কোটি টাকা সমমূল্যের ৬৩ টন ক্ষতি হয়েছে। জেলায় আখ উৎপাদনে প্রায় ১০০ কৃষকের প্রায় ১৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ৭৮০ টন ক্ষতি হয়েছে। বোনা আমনে ১২৭ জন কৃষকের প্রায় ১৯ লাখ টাকা সমমূল্যের ৪৩ টন ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাফায়াত আহম্মদ সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

মাটিরাঙ্গায় বন্যায় ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!