অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা যারা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাদেরকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয় না।
এছাড়া, বিদ্যালয়ে অস্থায়ী টয়লেট তৈরির জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ ও ৫০ করে নিয়েছেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধনের জন্যও অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন।
.png)
প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. বিপ্লব খাঁন জানান, এই বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরিক্ষা দেই। আমার সনদ ও নম্বরপত্রে বাবার নাম ভুল থাকায় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাই। তিনি কোনো সমাধান দেয়নি। পরবর্তীতে তার পরামর্শে অফিস সহায়কের কাছে গেলে তিনি ভুল সংশোধন করার জন্য ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। ১০ হাজার টাকা তাকে দিলে আমাকেই ঢাকায় গিয়ে সনদ আনতে হয়। আমি সংশোধনকৃত সনদ ও নম্বরপত্র পাই। স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশনপত্র চাইলে পুনরায় আবেদন করতে বলেন এবং আরো ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান।
শিক্ষার্থী শ্রাবণ জানান, এই স্কুলের ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। টেস্ট পরীক্ষায় আটকিয়ে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেন। পরে সেই টাকা দেওয়ার পর পরীক্ষা দিতে পারি। সেই টাকাটা দিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল।
অভিভাবক মানিক জানান, আমার দুই ছেলে এই স্কুলে পড়াশুনা করেছে। বড় ছেলে টেস্টে ফেল করায় এইএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য স্কুলে দশ হাজার টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের অনুরোধ করার পরও কোনো কাজ হয়নি। ছোট ছেলের একইভাবে টেস্টে ফেল করে। এতোগুলো টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি।
অভিভাবক আইয়ুব আলী জানান, ২০১৭ সালে তার ছেলের জন্য এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য দিতে হয়েছে তিন হাজার টাকা। এবার মেয়ের পরীক্ষার জন্য চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকের কাছে। আমি কিছু টাকা কম রাখার জন্য বললেও তিনি কোনো কথা না বলে সম্পূর্ণ টাকা নিয়েছিলেন।
যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন বলেন, এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে খুব ভালোভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি। প্রধান শিক্ষক আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। বরং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করেছি। এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন জানান, যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একটি অভিযোগপত্রের অনুলিপি পেয়েছি। সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।