ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাবেক এসপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সাবেক এসপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ
পিরোজপুর সদর থানা -ছবি: সংগৃহীত

বেআইনিভাবে থানায় ৩৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পর অস্ত্র দিয়ে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের সাবেক এসপি মো. শফিউর রহমান এবং সদর থানার সাবেক ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেনসহ ৪ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ২৮ আগস্ট জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার পিরোজপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়েরের পর শুনানি শেষে বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন।

Advertisement

মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- সদর থানার সাবেক সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম এবং ইন্সপেক্টর মো. জুলফিকার আলী। এছাড়া আরো ৪-৫ জনকে এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে কুমার উল্লেখ করেন, গত বছরের ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভাধীন উত্তর কৃষ্ণনগর বাড়ির সামনের রাস্তার ওপর থেকে সাদা পোশাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে আটক করে। এরপর রাত ১২টার দিকে তাকে টহল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন ভোরবেলা পুলিশ সদস্যরা হাতকড়া পরানোর পর কালো কাপড় দিয়ে তার দুই চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর মামলার প্রধান আসামি সদর থানার তৎকালীন ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন থানার গারদের সামনে তাকে বেত দিয়ে মারাত্মকভাবে পেটাতে থাকেন। ২-৩ মিনিট পেটানোর পর কুমার নিস্তেজ হয়ে পড়লে আবির তাকে পা দিয়ে পাড়াতে থাকেন।

ওই দিন থানায় আটক থাকা সবাইকে আদালতে পাঠানো হলেও কুমারকে থানায় রাখা হয়। এরপর তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে এই ধরনের স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য আবির তাকে চাপ দিতে থাকেন। তাতে রাজি না হওয়ায় প্রচণ্ড শীতের মধ্যে খালি গায়ে থানার গারদের মধ্যে কুমারকে শুইয়ে রাখা হয়।

এরপর ওই দিন রাতে পুনরায় হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে তার বাড়ির কাছে একটি কবরস্থানে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর সেখান থেকে একটি অস্ত্র বের করে সেটি কুমারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছবি তোলে পুলিশ। পরবর্তীতে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দিয়ে কুমারকে পরের দিন আদালতে পাঠানো হয়।

কুমার জানান, তাকে থানার মধ্যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে মিথ্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ ৪ মাস কারাভোগের পর তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল বাহিনীতে আবিরের মতো অসৎ কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের বিচার পাওয়ার জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে কুমারের আইনজীবী আকরাম আলী মোল্লা জানান, গত ২৭ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। বুধবার শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। তার দাবি এ মামলার সুষ্ঠ‍ু তদন্তের মাধ্যমে বাদী ন্যায় বিচার পাবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: পিরোজপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!