ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রিমান্ড শেষে ফজলে করিম কারাগারে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
রিমান্ড শেষে ফজলে করিম কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে দুদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জাকির হোসাইন মাহমুদ বলেন, রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালত প্রাঙ্গণে এনে পুলিশের গাড়িতে রাখা হয়। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। রিমান্ড আবেদন কিংবা অন্য কোনো শুনানি না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর তাকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

এর আগে, মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হলে ২০১৯ সালে রাউজানের মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় শুনানি শেষে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সেদিন নগরের তিন থানার তিনটি হত্যা মামলায় এবং রাউজান থানার দুটি ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) এএএম হুমায়ুন কবির বলেন, পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানার দুই মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখান আদালত। পাঁচলাইশের মামলাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের এবং চকবাজার থানার মামলাটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক নুরুল আলম হত্যা মামলা।

একইসঙ্গে চান্দগাঁও থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাইমন হত্যা মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন আদালত। তিনটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হলে শুনানির জন্য পরবর্তী সময়ে দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

যে মামলায় ফজলে করিমের দুদিনের রিমান্ড হয়েছিল, সেটির বাদী মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন। গত ২৩ আগস্ট ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলে করিমের নির্দেশে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার পাকা একতলা কার্যালয় ভবন গুড়িয়ে দেন আসামিরা। তারা কমিটির সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করেন। ঐ সময় কার্যালয়ে থাকা নগদ ছয় লাখ টাকাসহ সব সরঞ্জাম লুটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে ফজলে করিম চৌধুরীকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকের পর তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেয়া, ভাঙচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলার খবর পাওয়া গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!