ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, আটক ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
নোয়াখালীতে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, আটক ৪
নোয়াখালীতে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৪ -ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় ৩ সন্তানের জননী শারমিন আক্তারকে (৩০) নির্যাতনের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরইমধ্যে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া। এর আগে, গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের তাদের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- নির্যাতিতার স্বামী নুর নবী (৩২) ও তার ভাই শেখ ফরিদ (৩৫), বোন ছায়েরা খাতুন (৩৮) এবং ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম হাসান (১৫।

Advertisement

জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে চরজব্বর থানার পুলিশ। এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব চরবটা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরমজিদ গ্রামের আব্দুল হাদির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিতা শারমিন আক্তার অভিযোগ করে জানান, ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই ওয়ার্ডের নুরনবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ভিক্ষা করে সংসার চালান। তার এক মেয়ের হার্টের সমস্যা থাকায় ৫০ হাজার টাকা দরকার ছিল। এ জন্য স্থানীয় কয়েকটি বাজারে ভিক্ষা করে ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করেন। ভিক্ষা করে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে স্বামী পর-পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে প্রায় গালমন্দ করতেন। এভাবে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে তিনি ঢাকা চলে যান। পরে স্বামীর পরিবারের লোকজনের কথায় পুনরায় ফিরে আসেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১৩ আগস্ট রাতে শ্বশুরবাড়ির পাশের বেলাল সওদাগর নামে এক ব্যক্তি ভরসা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে প্রথমে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। এরপর ওইদিন রাত ১২টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুর আব্দুল হাদি, জা কুলসুমা ও নার্গিস, ভাসুরের ছেলে শেখ ফরিদ ও হাসান, ভাগ্নে রাসেল, স্বামী নুরনবী ও তার বোন ছাহেরা খাতুন আমার হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালান। আমার মা-বাবা কেউ নেই। আমি এতিম। আমার খালাতো ভাইয়েরা আমাকে লালনপালন করে বিয়ে দেন। খবর পেয়ে তারাই আমাকে উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

চরজব্বর থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া আরো বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!