চোরাচালানের নিরাপদ রুট সিলেট সীমান্ত!
চোরাচালানের নিরাপদ রুটে হয়ে উঠেছে সিলেট সীমান্ত। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রতিদিনই আসছে পশু, পণ্য ও শত শত বস্তা চিনি। বিভিন্ন সময়ে অভিযানে চোরাই এসব চালান জব্দের পাশাপাশি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই আটক হলেও কমছে না চোরাকারীদের দৌরাত্ম্য। এতে সরকার হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব। পাশাপাশি অবৈধ এসব পণ্যে সয়লাব সিলেটের বাজার। শনিবারও (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট সীমান্তে অবৈধ পথে আসা পশু-পণ্য ও চিনির বড় একটি চালান জব্দ হয়েছে। এর সঙ্গে আটকও হয়েছেন চারজন।
জানা গেছে, সিলেটে জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তটি চোরাকারবারিরা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতের খুব কাছাকাছি সীমান্ত হওয়ার কারণে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেদারছে অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে তারা। শুরুতে অবৈধ পথে শুধু চিনি নিয়ে এলেও বর্তমানে চিনির পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী এবং পশুও চালান করছে চোরাকারবারিরা।
বিশেষ করে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়ন এই দুটি পয়েন্টকে বেশি ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। সিলেটের এই পাশের ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় চোরাকারবারিদের কাছে বেশ পছন্দের রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি স্থান দিয়ে অবৈধ পন্য প্রবেশ করাচ্ছে তারা।
.png)
এরমধ্যে নজলজুরী খাসিনদী, খাসি হাওর, মোকাববাড়ি, আলু বাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, আদর্শগ্রাম, মিনাটিলা, কেন্দ্রী মন্দির, কাঁঠালবাড়ি, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, মরিছমারা, টিপরাখলা, জালিয়াখলা, কালিঞ্জি, ডিবির হাওর (আসামপাড়া), জঙ্গিবিল, বাঘছড়া, রাবারবাগান, ইয়াংরাজা এলাকা অন্যতম।
সিলেটে পশু, চিনি ছাড়াও চা পাতা, কসমেটিকস, শাড়ি, ভারতীয় মোটরসাইকেল, আমদানি নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, অপারেশন সামগ্রী, চেতনানাশক ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, বিস্কুট ও চকলেট চোরাচালান করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন ধরনের মাদকও এসব রুট দিয়ে দেশে প্রবেশ করাচ্ছে চোরাকারবারিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যে পরিমাণ চিনি জব্দ করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি চিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসছে। জেলার জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তের শতাধিক স্থান দিয়ে চিনি দেশে প্রবেশ করেছে।
শনিবার সিলেটে ভারতীয় চোরাই চিনি ও পশু-পণ্যের বড় তিনটি চালান জব্দ করেছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শহরতলীর বটেশ্বরে এলাকা থেকে চিনির দুটি চালান ও সিলেট-সুনামগঞ্জ থেকে পশু-পণ্যের একটি চালান জব্দ করা হয়। এ সময় চার চোরাকারবারিকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- সুফিয়ান আহমেদ, অঞ্জন রায়, কলিম উদ্দিন ও মো. আলাউদ্দিন। এরমধ্যে সুফিয়ান আহমদ সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রুফিয়ান আহমদ সবুজ ওরফে সাদ্দামের ছোট ভাই।
ওইদিন দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, বটেশ্বর বাজারের পান্না মার্কেটের তামাম বস্ত্রালয়ে চোরাকারবারিরা চোরাই চিনি প্যাকেটজাত করছে এমন সংবদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৫০ বস্তায় ২ হাজার ২৬০ কেজি ভারতীয় চোরাই চিনিসহ চারজনকে আটক করা হয়।
শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য্য জানান, থানায় মামলা করে চোরাকারবারিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, একইদিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে চোরাই পশু-পণ্যের আরেকটি বড় চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব পণ্যের বাজার দর প্রায় ৫৬ লাখ টাকা বলে বিজিবি জানিয়েছে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চিনি, ক্রিম, গরু, চা-পাতা জিরা, মোটরসাইকেল, ডেরোবিন ক্রিম এবং শিং মাছ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী বারকি নৌকাও আটক করা হয়। এসবের বাজার মূল্য ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৪২০ টাকা।