পৌর এলাকা যেন ময়লার ভাগাড়
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌর এলাকার সর্বত্র ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে। এতে দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ।
জানা যায়, ২০০৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভার স্বকৃীতি পেলেও অধ্যাবধি প্রতিদিনের ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভাগার তৈরি করা হয়নি। যে জন্য যত্রতত্র রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রাখা হয়। পৌর এলাকার অধিকাংশ এলাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখা হলে পরদিন সকালে একটি গার্বেজ পিকআপ দিয়ে ৪-৫ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ময়লা ফেলে। ফলে সেখানে নদের পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে।
সরেজমিন পৌর এলাকার ফলপট্রি, কাপড় পট্রি,পোস্ট অফিস সংলগ্ন, বিডিবিএল ব্যাংক,হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের আশপাশের অংশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও মিষ্টি পট্রি চৌরাস্তা এলাকায় ঘোরে দেখা যায় এসব জনবহুল স্থানে ময়লার স্তুপ পড়ে রয়েছে। এসব ময়লার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে মাছি ভনভন করছে ।
.png)
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী আতাউর রহমান,পথচারী মোফাজ্জল হোসেন, ব্যবসায়ী কামরুলসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ২য় শ্রেণির একটি পৌরসভায় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা থাকা দরকার। এতে যদি পরিবেশ ঠিক থাকে।
পৌরসভার কাপড়পট্টি মার্কেটে শাড়ি কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, কাপড়পট্টি সংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়ে পরিবেশ দূষিত করছে। এদিক দিয়ে চলাচলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা দরকার। এতে পরিবেশ দূষিত হবে না।
সদ্য বিলুপ্ত হওয়ার কারণে পদচ্যুত ২ বারের মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকন প্রথম বার নির্বাচিত হওয়ার পর যদিও ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনসহ সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বার বিজয়ী হওয়ার পর সে ব্যাপারে কোনো কার্যক্রম দেখা যায় নি।
হোসেনপুর পৌর সচিব হাবিব উল্লাহ বলেন, পৌর এলাকার ময়লা আগে একজনের ব্যক্তিগত জায়গায় ফেলা হতো। এখন তিনি সেখানে ময়লা ফেলতে না দেওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বিষয়টির শিগগিরই সমাধান হবে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক ফরিদ আল সোহান বলেন, বিষয়টি সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে।