তোফাইরুল ইসলাম রাহাত (২৫) নামের এক যুবককে এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর পরপরই প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চেনতানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে রাহাতের ডান পা ভেঙে গেছে এবং দুই হাত, গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।
.png)
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আহত রাহাতকে উদ্ধার করতে গেলে তার স্ত্রী, বোন এবং নিকটাত্মীয়দের আটকে রাখেন নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং তার কর্মচারীরা। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতে আছেন।
এ ঘটনায় রাহাতের স্ত্রী ফারাজানা আক্তার লাবণ্য গত শনিবার রাতে পবা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ওই নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস হাসান, ব্যবস্থাপক শুভ কুমার রনি ও ইমতিয়াজ আহমেদ ডালিম। তাদের মধ্যে পুলিশ রনি ও ডালিমকে গ্রেফতার করেছে। নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নির্যাতনে ব্যবহৃত লোহার পাইপ এবং চেতনানাশক ইনজেকশনের সিরিঞ্জসহ অন্যান্য আলামত।
ফেরদৌস হাসান বলেন, রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা আমাকে ব্ল্যাকমেল (প্রতারণা) করার চেষ্টা করছেন। তার ভাই রাহাত নিরাময় কেন্দ্রে অন্য মাদকাসক্ত রোগীদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাকে সামান্য মারধর করা হয়েছে।
রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা বলেন, আমরা রাজশাহী নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় বসবাস করি। আমাদের একটি প্লট রয়েছে। প্লটটিতে ডেভেলপার দিয়ে বহুতল ভবন করার কথাবার্তা চলছে। আমরা তিন ভাই-বোন, বাবা নেই। আমার ভাই রাহাতও এ প্লটের অংশীদার। বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে রাহাত টাকা পাবে। বিষয়টি জানার পর থেকে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস নানা অজুহাতে রাহাতকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন। রাহাত রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি আমাদেরও আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, দুই আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মালিক ফেরদৌসকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।