জানা গেছে, উপকূলীয় এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। ভৌগলিক অবস্থানে নদীর তীরবর্তী এ উপজেলাটি গঠিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলা করে সংগ্রামী যাদের জীবন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একদিকে নদীর অব্যাহত ভাঙন, অন্যদিকে প্রতি বছরই ২/১ বার সিডর, আইলা, আম্ফান, ফনি, রেমালসহ অসংখ্যা ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয় উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষকে।
নদীর তীরবর্তী তেলিগাতি ইউনিয়নের হেড়মা, মিস্ত্রিডাঙ্গা, পুটিখালীর ইউনিয়নের সোনাখালী, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ, সদর ইউনিয়নের গাবতলা, কাঠালতালা, খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী, ফাসিয়াতলা, চিপা বারইখালী, বলইবুনিয়ার ইউনিয়নের শ্রেনীখালী, বহরবুনিয়ার ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী, উত্তর ফুলহাতা, বারইখালী ইউনিয়নের, কাষ্মির, উত্তর বারইখালী, তুলাতলা, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা, সানকিভাঙ্গা, পৌর শহরের কুঠিবাড়ী, সানকিভাঙ্গা, বারইখালী, ফেরীঘাট সংলগ্ন এলাকার নদীর পাড়ের ১০টি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার পরিবার প্রতিবছর পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে বসতবাড়ি ঘর, বসতভিটা, শতশত বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অভিবাসন হয়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করছেন। নদীর তীরবর্তী সাইক্লোন শেল্টারে যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে এ উপজেলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ৯৩ জন মানুষকে।
.png)
কথা হয় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার হোসেন, বৃদ্ধ সাইফুল মুন্সী, ইয়াসমিন বেগম, রুহুল আমীন গাজীসহ কয়েকজন বলেন, পানির মধ্যেই জীবন, দুর্যোগ এলে আমাদের মতো গরিব মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। রান্না খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কষ্টের আর সীমা থাকে না। কয়দিন আগে রেমাল গেছে, এখন আবার নাকি ঘূর্ণিঝড় ডানা আসছে। ছেলে-মেয়ে পরিবার নিয়ে সাইক্লোনে শেল্টারে যেতে হবে। বাড়িঘরে আসার নেই রাস্তাঘাট।
পৌর শহরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহিন শেখ বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ডে ৬০০ পরিবারের ৭/৮ হাজার মানুষের বসবাস। প্রাইমারি স্কুলে একটি মাত্র সাইক্লোন শেল্টার দুর্যোগের মুহূর্তে সমস্যা হয়। সরকারিভাবে এ ওয়ার্ডে আরও একটি সাইক্লোন শেল্টারের দরকার। সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থায়ী বেড়িবাঁধ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় ডানা মোকাবিলায় এরমধ্যে সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন। এ উপজেলায় দুর্যোগে আশ্রয় নিতে ৮৬টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ ও পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে এরমধ্যে সভা করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সব ছুটি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস, একাধিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে সচিব ও গ্রাম পুলিশকে উপস্থিত থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মানুষের কোনো প্রকার যেন সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে তদারকি ও কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ রাখার জন্য বলা হয়েছে।