ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

রিফাত আল মাহামুদ, বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত জুন থেকে অক্টোবরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। যার মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখের মধ্যেই শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জন। এখানে গড়ে প্রতিদিন একজন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গুর রোগীর চাপ বাড়ায় ডাক্তার ও নার্সরাও আছেন বাড়তি চাপে।

মূলত গত জুন মাস থেকেই মোংলাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ওই মাস থেকে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। চলতি অক্টোবরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। এরমধ্যে ২৮ অক্টোবর সকালে ভর্তি হয়েছেন ৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন ৬ জন।

আর গত রোববার (২৭ অক্টোবর) ভর্তি থাকা ৪ জনের মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি মাসের এ পর্যন্ত ৩৫ জনের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু-কিশোর, যাদের বয়স ১১ মাস, ৩, ৬, ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৭ ও ২১ বছর। এরপর রয়েছেন মধ্য বয়সী নারীরাও।

Advertisement

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগী বলেন, এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। কিন্তু ভর্তি হওয়ার সময় যে অবস্থা হয়েছিল, মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না। চিকিৎসক-নার্সদের আন্তরিক সেবা আমাকে দ্রুত সুস্থ হতে সহযোগিতা করেছে।

রোগীর স্বজনেরা জানান, এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকটাই বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় তেমন তৎপরতা নেই।সরকারিভাবেও দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। অধিকাংশ জায়গায় দিনের পর দিন পানি জমছে। কেউ গিয়ে স্প্রে বা কোনো ওষুধও ছিটায় না। যে কারণে আশঙ্কা করছি, এবার এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা হবে।

রোগীর আরেক স্বজন বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত এ হাসপাতালে আসি। এখন আমার রোগী আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো।

হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, এখানের চিকিৎসা সেবা খুবই ভালো। ডাক্তারও নিয়মিত আসছেন, নার্সরাও এসে খোঁজখবর নিয়ে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে চিকিৎসা সেবা মোটামুটি ভালোই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সঙ্কট নেই। তাই কারো জ্বরের বয়স তিন-চারদিন হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাতে ডেঙ্গু শনাক্ত যেমন সহায়ক হবে, তেমনি কিটের অপচয় কমবে। এছাড়া মোংলাতে গতবার প্রথমবারের মতো সেল কাউন্টারের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষার কাজ শুরু করা হলেও এবার সেটা হচ্ছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রোগীর সংখ্যা বাড়লে সেল কাউন্টারের মাধ্যমে আবারো প্লাটিলেট কাউন্ট শুরু করবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হারটা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। গত জুন থেকে অক্টোবরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। যার মধ্যে চলতি অক্টোবরের ২৮ তারিখের মধ্যেই শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জন। এর আগের মাসগুলোতে শনাক্তের হার কম হলেও চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতার পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকারি এ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!