ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ট্রেনে বাড়তি ভাড়া আদায়কালে সমন্বয়কের হাতে ধরা, দুই রেল কর্মচারী বরখাস্ত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
ট্রেনে বাড়তি ভাড়া আদায়কালে সমন্বয়কের হাতে ধরা, দুই রেল কর্মচারী বরখাস্ত
বরখাস্তকৃত দুই রেল কর্মচারী

ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়ার নামে বাড়তি টাকা আদায়ের সময় ছাত্র সমন্বয়কের কাছে ধরা পড়ায় ট্রেনে দায়িত্বরত দুই রেল কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাবনা অভিমুখী ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। বরখাস্তকৃত রেল কর্মচারীরা হলেন, ট্রেন পরিচালক (গার্ড) মো. জাকারিয়া সোহাগ ও টিকেট পর্যবেক্ষক (টিটিই) মো. নয়ন ইসলাম।

জানা গেছে, চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনা অভিমুখে ছেড়ে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বরত টিকেট পর্যবেক্ষক(টিটিই) মো. নয়ন ইসলাম ও ট্রেন পরিচালক (গার্ড) জাকারিয়া সোহাগ কয়েকজন বিনা টিকেটের যাত্রীদের কাছে বাড়তি টাকা নিয়ে কোনো টিকেট দেননি। পরে রাজশাহী স্টেশন থেকে ট্রেনে থাকা কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কের কাছে যাত্রীরা অভিযোগ করলে তারা তা ভিডিও করে ট্রেনে দায়িত্বরত টিটিই ও গার্ডকে বিষয়টি অবগত করলে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে ছাত্র সমন্বয়কদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

Advertisement

পরে ট্রেনে থাকা ছাত্র সমন্বয়করা রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তাদের জানালে পাকশি রেলওয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করে। এদিকে গত সেপ্টেম্বর মাসে একই ঘটনায় ছাত্রদের তোপের মুখে পড়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন এই ট্রেন পরিচালক(গার্ড) জাকারিয়া সোহাগসহ আরো দুজন রেল কর্মচারী। তার এক মাস পরই পুনরায় আবারও ছাত্রদের তোপের মুখে বরখাস্ত হলেন এই ট্রেন পরিচালক।

এদিকে বৃহৎ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রতিনিয়ত এমন দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে লোক দেখানো সাময়িক বরখাস্ত করে কিছুদিন পর আবার সেই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল করে চোর পুলিশ খেলছে বলে ব্যাপক সমালোচিত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রেন পরিচালক (গার্ড) জাকারিয়া সোহাগকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি এ ব্যাপারে সরাসরি দেখা করে বিস্তারিত বলবেন বলেই মোবাইলের সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। 

অভিযুক্ত আরেক টিকেট পর্যবেক্ষক (টিটিই) মো. নয়ন ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যেভাবে শুনেছেন সেভাবে নয়। বিনা টিকেটের যাত্রীদের রুট অনুযায়ী ২/৩ জনের ভাড়ার টাকা এক সঙ্গে করে একটি স্ট্যান্ডিং টিকেট দেওয়া হয়। ফলে টিকেটটি একজনের হাতে থাকে। আর যাদের হাতে থাকে না তাদেরকে ওই ছাত্র সমন্বয়করা নিয়ে এসে আমাদের নানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তা ভিডিও করে। একপর্যায়ে তাদের তোপের মুখে পড়ে বাড়তি টাকা আদায় করেছি বলে স্বীকার করতে বাধ্য হই।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন বলেন, ট্রেনের টিটিই নয়ন ইসলাম বিনা টিকেটে যাত্রীর নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রেনের দায়িত্বরত পরিচালক ও টিটিই এ ঘটনা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। সেজন্য পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আর কিছুদিন পূর্বেও একই ঘটনায় ট্রেন পরিচালক (গার্ড) জাকারিয়া সোহাগ সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। তাই তার বিষয়টি আমরা রেল কর্তৃপক্ষ একটু গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার(সিসিএম) সূজিত কুমার বিশ্বাস জানান, ছাত্ররা মুঠোফোনে অভিযোগ জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের নিদের্শনা দিয়েছি। এরমধ্যেই ট্রেনে দায়িত্বরত পরিচালক ও টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: ঈশ্বরদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!