ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কী ঘটতে যাচ্ছে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের ভাগ্যে?

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ৯ নভেম্বর ২০২৪
কী ঘটতে যাচ্ছে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের ভাগ্যে?
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত হংকং কনভেনশনে আইএমও’র সদস্য দেশগুলোর জাহাজ কাটার সব ইয়ার্ডকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। যার সময় শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৬ জুন। এটি বাস্তবায়ন শুরু হলে কেবল গ্রিন শিপইয়ার্ডগুলোই ভাঙার জন্য আনতে পারবে জাহাজ।

ঘোষণা অনুযায়ী আর মাত্র সাত মাস পর শেষ হতে যাচ্ছে গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরের সময়সীমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাইকার সহায়তায় প্রতিবেশী ভারত সব ইয়ার্ডকে গ্রিন করে নিতে পারলেও বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে।

জানা গেছে, দেশে এখন পর্যন্ত গ্রিন হয়েছে মাত্র পাঁচটি শিপইয়ার্ড। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ২০টি। এরমধ্যে নির্ধারিত সময়ে শর্ত পূরণ করতে পারে ১৩ থেকে ১৪টি। ফলে চালু থাকা ৪০টি ইয়ার্ডের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই হবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ। আর এর অন্যতম কারণ মূলধন। এ কাজে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন, যা সরকারি সহায়তা ছাড়া ব্যবস্থা করতে পারছেন না অনেকেই।

Advertisement

জানা যায়, চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলে থাকা শিপইয়ার্ডগুলো থেকে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। এছাড়াও দেশের ইস্পাত শিল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাঁচামালের যোগান হয় এখান থেকে। এতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ২০ হাজার। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে- আগামী বছর বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের বড় এ শিল্প। গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিণত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়লে যার প্রভাব পড়তে পারে সমগ্র শিল্পে। এ অবস্থায় জাহাজভাঙা শিল্পে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দিকে তাকিয়ে উদ্যোক্তারা।

জাহাজ ভাঙা শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সহ-সভাপতি ও পিএইচপি শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, হংকং কনভেনশনের আদলে উন্নীত ইয়ার্ডগুলোই শুধু জাহাজ আনতে পারবে। অন্যরা পারবে না। ফলে এটির একটি বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বছরে চার মাস বৃষ্টিপাত থাকে। এ সময় ইয়ার্ডগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে পুরো ইয়ার্ড কংক্রিট ঢালাই করতে হয়। এছাড়া জাহাজ একটু দূরে থাকলে সেখানে বার্থিং সিস্টেম এবং ভারি ক্রেনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়ে। একেকটি শিপইয়ার্ডকে গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিণত করতে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন। এ অবস্থায় স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ এবং বিদেশিদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

শিপ রিসাইক্লিং কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের বাইরের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ করলে এটি আমাদের জন্য সুবিধা হবে।

বিপুল জাহাজ হতে পারে হাতছাড়া

বর্তমানে বিশ্বে জাহাজ ভাঙায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। দ্বিতীয় অবস্থানে প্রতিবেশী ভারত। গেল বছর বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১৭০টি। একই বছর ভারত ভেঙেছে ১৪০টি। এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা তুর্কি ৪৪টি ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা পাকিস্তান ১৫টি জাহাজ ভেঙেছে।

২০২৩ সালে ৩২ লাখ ৩২ হাজার টনের জাহাজ ভেঙেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ভারত ভেঙেছে ২৬ লাখ ১০ হাজার টন। পাকিস্তান ভেঙেছে ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। যা ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এখনো বিশ্বে রিসাইক্লিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার জাহাজ। কিন্তু গ্রিন শিপইয়ার্ড না হলে বিপুল জাহাজ হারাতে পারে বাংলাদেশ।

এইচ এম স্টিলের পরিচালক সরওয়ার আলম বলেন, বিদেশি কোনো ফান্ডের মাধ্যমে গ্রিন ইয়ার্ডের জন্য যদি দীর্ঘ মেয়াদে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে বাকি যে ইয়ার্ডগুলো আছে তা সহসা গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত করা যাবে।

নিরাপত্তা, উন্নত কর্মপরিবেশ আর শ্রমিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতসহ দেড়শ’র মতো ছোট-বড় বিষয় বাস্তবায়ন করতে হয় গ্রিন ইয়ার্ডে। যাতে গুরুত্ব পাচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমানো। এমন বাস্তবতায় এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের নিবিড় মনোযোগের তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!