অভিযুক্ত দুলাল চন্দ্র দেবনাথ পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতিতে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তিনি বর্তমানে জেলা আদালতে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিপি) হিসেবে কর্মরত।
পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্র দেবনাথ ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে পটুয়াখালীর বাসিন্দা সোমা দেবনাথকে বিয়ে করেন। তাদের একটি ৪ বছর বয়সী মেয়ে সন্তান রয়েছে। তারা সন্তান নিয়ে পটুয়াখালীর পিটিআই রোডে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ হঠাৎ করে তার স্ত্রী সোমা দেবনাথের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন। কখনো কখনো সোমা দেবনাথকে মারধরও করেন তার স্বামী।
.png)
পরবর্তীতে সোমা দেবনাথ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী অপর এক মহিলা আইনজীবীর সঙ্গে পরকীয়া করছেন এবং তার সঙ্গে বিবাহবহিভূর্তভাবে বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে সোমা দেবনাথকে ভরণপোষণ না দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ দেন তিনি। এতে অভিযুক্ত আইনজীবী তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন ও বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চলে যান এবং লোক মারফত হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে সোমা দেবনাথ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ছাড়া অসহায় অবস্থায় বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোমা দেবনাথের একাধিক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, সোমা দেবনাথকে তার স্বামী অত্যাচার নির্যাতন করতেন। বর্তমানে তারা অবরুদ্ধ এবং অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
সোমা দেবনাথ দেবনাথের ভাই সুমান দেবনাথ জানান, বোনের ওপর অত্যাচার এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থানায় জিডি করেছেন দুলাল চন্দ্র দেবনাথ। এখন তার বোন অসহায় এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ছাড়া সংকটাপন্ন জীবনযাপন করছেন।
অভিযুক্ত দুলাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার স্ত্রী পরকীয়া করে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে। তাই আমি ক্ষিপ্ত হয়ে এমন কাজ করেছি। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় এই সমস্যার সমাধান করব।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আহমেদ ইমতিয়াজ বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি আমি। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।