ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ধান নয়, খড় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
ধান নয়, খড় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক
কৃষক ও খামারিরা খড়ের গাদা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আমন ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ উপজেলায় আমন মৌসুমের ধান কাটার পর মাড়াই শেষে খড় দিয়ে গাদা তৈরির রেওয়াজ অনেক আগের। কয়েক বছর আগেও কৃষকেরা ধান মাড়াইয়ের বিনিময়ে এসব খড় মানুষকে দিয়ে দিতেন। সময়ের পরিবর্তনে এসব খড় এখন মূল্যবান বস্তু। গোখাদ্যের জন্য ক্ষেতে থাকা অবস্থাতেই খড় কিনে নিচ্ছেন খামারিরা। আর এতে খড় বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা।

জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে সাধারণত মাঠে ঘাস থাকে না। ফলে গরুর খামারিরা খাদ্যের যোগান দিতে বিপাকে পড়েন। তাই ঘাসের বিকল্প হিসেবে তারা এসব খড় কিনে রাখছেন। ফলে ধান কাটা শেষে এখন কৃষকদের মধ্যে খড় বিক্রির ধুম পড়েছে। এ উপজেলায় এখন প্রতি কাঠা আমনের খড় এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ চাষিই এখন খড় বিক্রিতে বেশি উৎসাহী। হাটবাজারে ধান নিয়ে অনেক সময় বসে থাকতে হয়। কিন্তু ধান কাটার আগেই খড়ের খদ্দের জুটে যাচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার জগদল, পুমদি, ধুলজুরীসহ কয়েকটি গ্রামে দেখা যায়, কৃষক ও খামারিরা খড়ের গাদা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বলেন, ধানের চেয়ে এখন খড়ের কদর বেশি বলা যায়। ১ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০ আঁটি খড় হয়। একেকটি খড়ের আঁটি পাঁচ থেকে ছয় টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৮ হাজার ৪৭৬ হেক্টর  জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়েছিল। এ উপজেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় গবাদিপশু লালনপালনে ঘাসের পাশাপাশি খড়ও উৎকৃষ্ট খাদ্য। খাবার হিসেবে প্রতিটি গরুকে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় আঁটি খড় দিতে হয়। গাভির জন্য খড় খুবই উপকারী। এ জন্য কৃষকেরা বাজার থেকে কেনা গোখাদ্যের চেয়ে ধানের খড়কে বেশি গুরুত্ব দেন।

খড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন খামারি।

উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। তবে এখন ধান বিক্রির চেয়ে খড় বিক্রির প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। জগদল গ্রামের কৃষক মো. রিপন মিয়া বলেন, আমাদের ৮ কাঠা ক্ষেতের খড় ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি৷ ধান কাটার আগেই গরুর খামারি খড় কিনেছেন। আগে খড়ের এত মূল্য ছিল না। কিন্তু বর্তমানে খড় বিক্রি করে আমরা বাড়তি আয় করতে পারছি।

ধুলজুরী গ্রামের কৃষক আব্দুল সালাম বলেন, ৩ কাঠা ক্ষেতের খড় ৩২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। খড়ের দাম না থাকলে ধান চাষে যে খরচ হয়েছে, তাতে লোকসান হতো।

কৃষক দ্বীন ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও আমরা মানুষকে বিনামূল্যে খড় দিয়ে দিতাম। এখন আর বিনামূল্যে চাইতে পারে না। নিজের গরুর জন্য খড় রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ধান চাষেও লাভবান হচ্ছি।

গরুর খামারি আল আমিন জানান, আগে আশপাশে অনেক খালি জায়গা ছিল। ঘাসের অভাব ছিল না। এখন জমি পড়ে থাকে না। ঘাসের জমির অভাব, তাই খড়ের দামও বেড়ে গেছে। বাজারে গরুর খাবারের দামও বেশি। তাই খড়েই ভরসা রাখি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোদাসিল হায়দার আলমগীর বলেন, ধানের পাশাপাড়ি খড় বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন। এসময় এলাকায় ঘাসের সংকট থাকে। তাই গোখাদ্য হিসেবে খড়ের আঁটির চাহিদা আছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!