এর আগে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজতখানা থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতের প্রবেশমুখসহ পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গ্রেফতার দেখানো আসামিরা হলেন- সুমিত দাশ, নয়ন দাশ, গগন দাশ, বিশাল দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, সনু মেথর, রুমিত দাশ ও দুর্লভ দাশ।
.png)
নগর পুলিশের এডিসি (প্রসিকিউশন) মফিজুর রহমান বলেন, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় নয় আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) কোতোয়ালি থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যানটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর এবং চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা জামাল উদ্দিন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- কোতোয়ালি থানার বান্ডেল রোড সেবক কলোনি এলাকার বাসিন্দা চন্দন, আমান দাস, শুভ কান্তি দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত, রুমিত দাশ, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, ওমকার দাস, বিশাল, রাজকাপুর, লালা, সামির, সোহেল দাস, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, দুর্লভ দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
একইদিন শুক্রবার কোতোয়ালি থানায় আরো একটি মামলা করেন আলিফের বড়ভাই খানে আলম। আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ১১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। নতুন দুটি নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) আদালত এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে।