ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দ ছিল না ভৈরবে

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দ ছিল না ভৈরবে
ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিভাস্কর্য। ফাইল ফটো

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের কোনো আনন্দ ছিল না ভৈরবে। এই দিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলেও বন্দরনগরী ভৈরব তখনো ছিল অবরুদ্ধ। দেশ মুক্ত হলেও চূড়ান্ত বিজয়ের স্বাদ পেতে ভৈরববাসীকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো তিনদিন। অবশেষে ভৈরবের মিত্র বাহিনীর হাতে আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী।

১৯৭১ সালের সারাদেশের ন্যায় ভৈরবেও নারকীয় হত্যাকাণ্ড শুরু করে পাক হানাদার বাহিনী। তাদের দোসর আলবদর ও রাজাকাররা ভৈরব বাজারের তিন ভাগের দুই ভাগই জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সিন্দুক ভেঙে টাকা ও মালামাল লুট করে।

অসংখ্য নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধকে নির্বিচারে হত্যা ও মা-বোনদের ইজ্জত লুট করে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহিদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতুর পূর্ব পাশে একটি ও পশ্চিম পার্শে দুটি স্পেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে মিত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার প্রয়াস চালায়। 

Advertisement

১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের প্রধান জেনারেল নিয়াজী তার দলবলসহ আত্মসর্মপণ করলেও ভৈরবে পাক হানাদার বাহিনী সেই খবর পায়নি। ফলে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক হানাদারদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলতে থাকে ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধাদের।

১৯ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের হাই কমান্ডের নির্দেশ পেয়ে আত্মসর্মপণের পূর্ব মুহূর্তে তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের রক্ষিত টাকা লুট করে। এছাড়াও আবাসিক এলাকার ঘরবাড়িতে লুটপাট চালায় তারা। এমনকি বিভিন্ন গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে আগুন দেয়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর তারা আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয়। পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় ভৈরব। 

এভাবে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং ভৈরবের মানুষ পাকিস্তানি পতাকাকে পদদলিত করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে মানুষ উল্লাস করতে থাকে। প্রতি বছরই এ দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ভৈরবের মানুষ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!