জানা গেছে, সবজির জন্য খুবই বিখ্যাত এলাকা এটি। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়। উপজেলার তারাকান্দি সবজির হাটেই প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার মতো সবজি বেচাকেনা হয়। তবে চলতি মৌসুমে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হওয়ায় পানির দরে সবজি বেচতে হচ্ছে এখানকার চাষিদের। যার ফলে এসব কৃষিজাত পণ্যের লাভ যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এ উপজেলায় ১৩৪০ হেক্টর জমিতে আলু, ১২০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ২৫ হেক্টর জমিতে বাধাকপি, ৩০ হেক্টর জমিতে সিম চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও কৃষকের কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ব্যাপক ফলন হয়েছে এসব সবজির। তবে একই সঙ্গে বাজারে ব্যাপক পরিমাণে শীতকালীন এসব সবজির সরবরাহ হওয়ায় কৃষক তার উৎপাদিত সবজির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এ উপজেলায় আলু সংরক্ষণ করে রাখার জন্য দুটি হিমাগার থাকলেও সবজি সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। যদি এখানে সবজি হিমাগার থাকতো তবে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পেত। তবে এখানকার কৃষির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে অতিদ্রুত কীভাবে সবজি হিমাগার স্থাপন করা যায় সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই কোনো সুফল মিলবে।
.png)
সরেজমিন উপজেলার তারাকান্দি, মুনিয়ারীকান্দা, জাঙালিয়া, মির্জাপুর ও পাকুন্দিয়া সদর বাজার ঘুরে কৃষক, পাইকার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এখানে ব্যাপক পরিমাণে সবজির আবাদ হয়। উপজেলার সবচেয়ে বড় সবজির হাট বসে তারকান্দি বাজারে। এখানে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়। এই বাজারে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৫-৪০ টাকা, পেঁয়াজ নতুন ৪৫-৫০, আলু আলু নতুন ৩৫-৪০ টাকা, শশা ৩০-৩২ টাকা, মুলা ৬-৮ টাকা হালি, বেগুন ২৫-৩০ টাকা, পাকা টমেটো ৫০-৫৫ টাকা কেজি, কাঁচা টমেটো ২৫-৩০ টাকা. সিম ২৫-৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা, ফুলকপি ৮-১০ টাকা, পাতাকপি ১৫-২০ টাকা (পিচ), করল্লা ৬০-৬৫ টাকা, পানি লাউ ৩৫-৪০ টাকা কেজি, জলপাই ৩০-৩৫ টাকা কেজি, পান আলু ১৫-২০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে একই পণ্য হাত ঘুরে বিভিন্ন বাজারে গেলেই দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। মাঝখান দিয়ে উৎপাদিত এসব ফসলের লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পুঁজি খাটিয়ে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে উৎপাদিত সবজির কাঙ্খিত দাম না পেয়ে অনেকেই হতাশ। লোকসান গুনছেন অনেকেই। এতে এখানে সবজির উৎপাদন কমতে পারে। কৃষকের স্বার্থে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং সবজি হিমাগার স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাইকাররা জানান, লাভের জন্যই মূলত ব্যবসা। আমরাও তো পুঁজি খাটিয়ে দেশের দূর-দূরান্তের বাজারে নিয়ে এসব পণ্য বিক্রি করি। এতে আমাদের যাতায়াত ও শ্রমিক খরচ গুনতে হয়। সব মিলিয়েই চলতে হয়।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচামাল পচনশীল একটি ব্যবসা। সকালে তরতাজা সবজি বিকেলেই রং পাল্টে যায় কিংবা শুকিয়ে যায়। এজন্য সবসময় দাম এক থাকেনা। শীত মৌসুমে সবজির সরবরাহ বেশি থাকে তাই দাম কম। আর এই সময়ে সবজি নষ্টও হয় কম। চাহিদার তুলনায় সবজি বেশি হলে তো লোকসান হবেই।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই আলম বলেন, সবজির উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং ভালো ফলন হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেশি। তাই সবজির দাম কিছুটা কম। তবে যারা আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ করেছিলেন তারা মোটামুটি লাভবান হয়েছেন। আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এখানে আলুর হিমাগার থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ফুলকপি, বাধাকপিসহ অন্যান্য সবজির জন্য হিমাগার না থাকায় কৃষকেরা কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছেন না। সবজি সংরক্ষণাগার স্থাপনের জন্য কৃষি বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি চালানের মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এখানে সবজি হিমাগার নির্মাণ হবে’।