রোববার (১ মার্চ) সকালে মামলার শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
.png)
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় মো. জাকির হোসেনের সরিষাক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন কিশোরীর মা। এর পরপরই পুলিশ নরসিংদী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় মূল আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার কোতোয়ালিরচর এলাকার শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ নূরা (২৮), একই এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. এবাদুল্লাহ (৪০), হান্নান মুন্সীর ছেলে হযরত আলী (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), মজিবুর রহমানের ছেলে গাফফার (৩৭), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) ও তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)।
পলাতক আসামিরা হলেন কোতোয়ালিরচর এলাকার শাহজাহানের ছেলে ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) ও দেওয়ান আলীর ছেলে আবু তাহের (৫০)।
নরসিংদী আদালতের পরিদর্শক সফি উদ্দিন বলেন, রিমান্ড শুনানির সময় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেফতার সাত আসামিকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত শুনানি শেষে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ওমর কাইউম বলেন, মামলার এজাহার অনুযায়ী ৯ আসামির মধ্যে চারজন ধর্ষক ও পাঁচজন সালিশকারী। আসামিদের পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুরুতে কিশোরীকে ধর্ষক ও হত্যায় জড়িত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
নরসিংদী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান ভূইয়া বলেন, মাধবদীর কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংসতা বিবেচনায় এবং এমপির অনুরোধে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে একমত হই এই মামলায় কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেব না।