ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৮, ১২ মার্চ ২০২৬
বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদী ঘেঁষা বালুর ঘাটের লোড-আনলোডের ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন শিমরাইলস্থ পশ্চিম পাড় এলাকায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বালুর ঘাটের ইজারাদার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ঘটার পর পলিন আত্মগোপনে চলে গেলে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষ নতুন করে কাউকে ইজারা দেয়নি। তবে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের ছেলের হাতে। এরপর টানা ১৮ মাস তাদের দখলে থাকলেও সবশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিতের পর আবারো নতুন দুটি গ্রুপ দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ায়। তারই জের ধরে গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

Advertisement

আরো জানা গেছে, ঘাট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের ছোট ভাই রাসেল ঘাটে যান। এ সময় তাদের উপস্থিতি জানতে পেয়ে এমপি বলয়ের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন সরকারসহ তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল উপস্থিত হন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের জহির, নূর হোসেন, নজরুলের নাম জানা গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কাউন্সিলর পলিন ঘাটের ইজারা নিয়েছিলেন। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর গিয়াসউদ্দিনের ছেলে দখল নেয় এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ নতুন করে কোনো বৈধ ইজারা হয়নি। নির্বাচনের পর গিয়াসের ছেলে ছেড়ে দিলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ তার ভাই রাসেল মাহমুদকে দিয়ে নদীর পাড়ের পাথর বালুর ঘাট দখল নেয়ার চেষ্টা করে। আহ্বায়কের ভাই রাসেল দখল নিতে গেলে আমি এমপিকে বিষয়টি জানাই এবং তিনি আমাকে দেখার জন্য বলেন। এমপির কথা অনুযায়ী আমি বাধা দিলে মামুন মাহমুদের লোক আমাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। আমাদের সঙ্গে র‍্যাবের সদস্যরাও ছিল। র‍্যাব পরিবেশ শান্ত করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ঘাটের যে বৈধ ইজারাদার আছে তাকে ঘাট বুঝিয়ে দিতে রাসেলসহ অন্যরা গিয়েছিল। কিন্তু দখলদাররা দখল নিতে তাদের ওপর হামলা করে। সরকারি জিনিস তো কেউ দখল নিতে পারে না। বৈধ কাগজ যার নামে তিনি ছাড়া অন্যরা দখল নিলে অবৈধই হয়। আমাদের লোকজন বৈধ ব্যক্তিকে বুঝিয়ে দিতেই গিয়েছিল। এতে আমাদের গ্রুপের দুই-তিনজন আহতও হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল বারিক বলেন, নদীর পাড়ের পাথর, বালুর ঘাট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটন ঘটেছে। এ ঘটনায় একপক্ষ অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!