ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তি, বাবা পলাতক

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ১১ জুলাই ২০২৬
খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তি, বাবা পলাতক
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা মহানগরীতে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা (৩৫)। 

পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

Advertisement

কেএমপির তথ্যমতে, গত ৮ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরীর সদর থানা এলাকার একটি আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দী অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রচার এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সদর থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা, যিনি মোহাম্মদ আলী হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির একমাত্র সন্তান।

পুলিশ জানায়, নিহতের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমদিকে তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আরিফা ইয়াসমিন সীমা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর ১০ জুলাই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং একাধিকবার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মা-মেয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সীমা মেয়েকে মারধর করেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে এসে বাবা মোহাম্মদ আলী হোসেন আকাশ কাঠের একটি বাতা দিয়ে আঘাত করলে সেটি কিশোরীর মাথায় লাগে। এতে গুরুতর আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের দাবি, মৃত্যুর পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি প্রথমে কাপড়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সদর থানা এলাকার তিন নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়।

কেএমপি জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় আরিফা ইয়াসমিন সীমা স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী হোসেন আকাশকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে তার অবস্থান শনাক্তে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তে নিহতের বাবা-মায়ের মাদক সেবনের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি জানান, তার সার্বিক নির্দেশনায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম, খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমানসহ একটি আভিযানিক দল এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!