রোববার (১২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে বিশেষ মোনাজাতে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
জানাজার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বক্তারা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা, ব্যক্তিগত সততা ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুরো অনুষ্ঠানে শোকের আবহ বিরাজ করে।
.png)
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মরদেহ পঞ্চগড়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৫টায় তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের নয়াবাড়ি গ্রামে তার নিজ বাড়ির এলাকায় আরও একটি গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পঞ্চগড়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। জন্মস্থান তেঁতুলিয়ার ভজনপুরের নয়াবাড়ি গ্রামেও নেমে আসে শোকের পরিবেশ। জেলা বিএনপি তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক বইয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে।
এদিকে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংসদ ভবনের নির্ধারিত কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়৷
এদিকে বিকেল ৫টায় তার গ্রামের বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বেগম খালেদা জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গায়েবানা জানাজা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়৷