প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র্যালি বের করে। র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে দলীয় পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানালে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
.png)
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।