ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলাবাসীর মুখে হাসি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৮, ২২ আগস্ট ২০২৬
অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলাবাসীর মুখে হাসি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষ। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে নারী, পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। কারো মুখে হাসি, কারও চোখে স্বস্তি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে যেন উৎসবের আবহাওয়া সীমান্ত এলাকার এসব মানুষের মাঝে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে চালু হয়েছে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

স্থানীয় বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দুলাল হোসেন বাচ্চুর ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হওয়া এই সেবাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছে ইউনিয়নের মানুষ।

Advertisement

এ যেন শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্সকে স্বাগত জানানো নয়, দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশাকে বরণ করে নেওয়া, বলছেন স্থানীয় মানুষরা।

জানা যায়, প্রত্যন্ত এই এলাকায় হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে, প্রসূতি মায়ের জরুরি প্রয়োজন হলে কিংবা দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়াত দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো। বিশেষ করে রাতের বেলায় গাড়ি পাওয়া ছিল আরও কঠিন। কখনো গাড়ির খোঁজে ছুটতে হতো, আবার কখনো দূরে কোনো মাইক্রোবাসের অপেক্ষায় নষ্ট হতো মূল্যবান সময়। সেই বাস্তবতায় নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স যেন সংকটের মুহূর্তে মানুষের হাতের নাগালে পাওয়া একটি আশার ঠিকানা।

শনিবার সকাল থেকে এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও এর উদ্বোধন হয় শুক্রবার বিকেলে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই এগিয়ে এসে বাস্তবায়নকারী সেই ব্যবসায়ী ও সমাজসেবককে শুভেচ্ছা জানান। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

শুধু তাই নয়, পরে যিনি এই অ্যাম্বুলেন্সটি উপহার দিয়েছেন, তাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা ঘুরে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সেবার কথা জানানো হয়। মোটরসাইকেলের সারি, মানুষের হাত নাড়া আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। সব মিলিয়ে সীমান্তের এই এলাকায় তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।

আরও জানা যায়, এই সেবাকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় তরুণদের একটি দল স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে। জরুরি সময়ে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা পাশে থাকবেন। এরইমধ্যে সেই স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালকের ফোন নম্বর মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছেন, যেন প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই অ্যাম্বুলেন্স শুধু রোগী পরিবহনের একটি মাধ্যম হবে না। বরং সংকটের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।

কথা হয় ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা হবিবর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করি। এই এলাকার মানুষ অনেক গরিব। হঠাৎ করে কোনো মানুষ অসুস্থ হলে মাইক্রোবাস জোগাড় করে তারপর হাসপাতালে রওনা হতে হয়। এতে অনেক সময় লাগার কারণে অনেকে পথের মধ্যে মারা যায়। আজকে বাচ্চু ভাই যে অ্যাম্বুলেন্স দিলেন, এটি অনেক উপকার হবে এই এলাকার মানুষের জন্য।

একই কথা বলেন রেজাউল করিম রাজু নামে আরেক তরুণ। তিনি বলেন, এই অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক উপকারে আসবে এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য। যিনি এই উপহার দিয়েছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার আনন্দে আজকে আমরা পুরো এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি।

অ্যাম্বুলেন্সের চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নয় আমার। মানুষের বিপদের সময় দু’পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

অ্যাম্বুলেন্সের চালকরাও বলছেন, এটি শুধু একটি গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নয়; মানুষের বিপদের সময় দ্রুত পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে দুইজন চালক দায়িত্ব পালন করবেন।

উদ্যোক্তা দুলাল হোসেন বাচ্চু বলেন,এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে রোগী পরিবহনে অনেক কষ্ট হয়। এটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। আশপাশে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাসে যেতে হয়, আবার অনেক সময় অপেক্ষা করে পাওয়া যায়। এতে অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। তাই আমি উদ্যোগ নিয়েছি ব্যক্তিগতভাবে এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার। অ্যাম্বুলেন্স চালকের ফোন নম্বর এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে।

স্থানীয় আব্দুর রশিদ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,এটি একটি মহতী উদ্যোগ। যিনি বাস্তবায়ন করেছেন, তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেয়ে এই এলাকার অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!