ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নোয়াখালীতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি 

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২৪ আগস্ট ২০২৬
নোয়াখালীতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আমিন উল্যাহ হাওলাদার (৮৪) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ‘একরাম বাহিনী’র প্রধানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বয়ার বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহমুদুল হাসান, যুবদল নেতা মোসলেহ উদ্দিন, ব্যবসায়ী আবদুল করিম ও মো. নাসিমসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।

Advertisement

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভাটিরটেক গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে আমিন উল্যাহ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। স্থানীয় একটি ভূমিহীন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে একরাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে আমিন উল্যাহ হাওলাদারের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন 'একরাম বাহিনী’র প্রধান একরাম ও তার বাহিনীর সদস্যরা। চাঁদা না দেওয়ায় তার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক তাদের জমি দখল করা হয়। 

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট সকালে আমিন উল্যাহ হাওলাদার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিতে ধান চাষ করতে গেলে একরাম ও তার সহযোগী ইসমাইল, সোলেমান, হাসান, সিরাজ, ইয়াকুব ও ইউসুফসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিন উল্যাহ হাওলাদারসহ পরিবারের আটজন আহত হন।

পরে গুরুতর আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার এবং তার দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেনকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও আনোয়ার হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট বিকেলে আমিন উল্যাহ হাওলাদার মারা যান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খুনি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি পুলিশ। তারা দ্রুত মামলার প্রধান আসামিসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার মারা গেছেন। নিহতের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় এরইমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!